বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রগঞ্জ বাজার : সাত দিনে ৪বার অগ্নিকাণ্ড নাশকতা কি না, খতিয়ে দেখার দাবী ব্যবসায়ীদের

চন্দ্রগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজারে গত সাত দিনে ৪বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নাশকতা কি না গোয়েন্দা সংস্থাদের খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি চন্দ্রগঞ্জ বাজারে এবং চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাসহ এখানকার সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন একটি তুলার কারখানায় প্রথমে আগুন লাগে। এসময় লক্ষ্মীপুর ও চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ওই তুলার কারখানাসহ দুটি ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতি হয় ১৫ লাখ টাকা। এরপর গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দ্বিতীয়বার এবং পরদিন ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তৃতীয়বার একই স্থানে আগুন লাগে। এঘটনায়ও দুটি তুলার কারখানা পুড়ে যায়। সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন স্থানে আগুন লাগে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি গোডাউন, একটি ঢুলিবাঁশের দোকান, একটি হোটেলসহ ৪টি দোকানঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়।

খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর চৌমুহনীর দুটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে ঘন্টাব্যাপি চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, অল্পের জন্য রক্ষা পায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এ দিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই বাজারের পাশাপাশি স্থানে ৪বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগুন আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে দোকানপাট বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (তহশিলদার) কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আমরা অফিস বন্ধ করে বাড়িতে গিয়েছি। বাড়িতে না পৌঁছাতেই খবর আসে ভূমি অফিসের পাশে আগুন লেগেছে। দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরী কাগজপত্র সরিয়ে ফেলি।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল মন্নান বলেন, পরপর ৪বার একই বাজারের (চন্দ্রগঞ্জ) একই স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা পাশবর্তী চৌমুহনী স্টেশনের সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস বৈদ্যুতিক সর্টশার্কিটের কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি।

এ দিকে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রেদোয়ান হোসেন, কাজী মিজান, মোরশেদ আলমসহ অনেকেই জানিয়েছেন- শুধু দুর্ঘটনা জনিত অগ্নিকাণ্ড হলে একই স্থানে পর পর ৪বার আগুন লাগার কথা নয়। তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করার দাবী জানান।

চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তহিদুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রগঞ্জে সাত দিনে ৪বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে অবহিত করে তাদেরকে সহযোগিতা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এম ছাবির আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। আমরা বিষয়গুলো জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা বলেন, চন্দ্রগঞ্জে ছোট বড় প্রায় দুই হাজারের বেশি ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১