বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরজয়পুরে ৮৪ শতাংশ জমি জবর-দখল, ক্ষেতের ফসল ভূমিদস্যুদের কব্জায় : আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার :

লক্ষ্মীপুরের উত্তরজয়পুর ইউপির চৌপল্লীতে জাল দলিল সৃজন করে কৃষক আবু তাহের গংয়ের ৮৪ শতাংশ চাষাবাদকৃত জমি জোর জবর-দখলের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছেন ভূমিদস্যু হামিদ উল্যাহ গং। শুধু জাল দলিলই নয়, তথ্য গোপন করে নিজেদের ভূমি মাঠজরিপে রেকর্ড করাসহ জমাখারিজ খতিয়ান খুলে নিয়েছেন ভূমিদস্যু এই চক্রটি। এদিকে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও হামিদ উল্যাহ গং জোরপূর্বক ধানচাষ করে প্রতিবছর ধান কেটে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে ধান ক্ষেতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ধান বিনষ্ট হলেও প্রতিপক্ষ আবু তাহের গংয়ের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় পরিকল্পিত মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন হামিদ উল্যাহ গং।

সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন উত্তরজয়পুর ইউনিয়নের ১৬৪নং দক্ষিণ চৌপল্লী মৌজার সিএস ০৮ খতিয়ানে ৫.১৩ একর ভূমির হিস্যা আনা অংশে ২.৫৬৫ একর ভূমির মালিক হন কৃষ্ণ গন। কৃষগনের লোকান্তরে পুত্র বিরেন্দ্র কুমার গন উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক দখলকার থাকা অবস্থায় এসএ ৭ খতিয়ানে রেকর্ড হয়। উত্তরাধিকার মালিক, এসএ রেকর্ড ও দখলকার সূত্রে বিরেন্দ্র কুমার গন হতে ১৯৭৫ইং সনের ৫ই মে তারিখে ৮৪৩৮নং ছাপকবল মূলে ১৯ শতাংশ ভূমি খরিদ করেন আদালতে দায়েরকৃত মামলার বাদী আবু তাহের ও তার ভ্রাতাগন। কিন্তু বিবাদী হামিদ উল্যাহ গং ছাপকবলা দলিল মূলে মালিকীয় আবু তাহের গংয়ের ১৯ শতাংশ ভূমির বিপরীতে ১৯৭০ইং সনের ৩০ই মে তারিখে কৃষ্ণ সুন্দর বৈষ্ণব গং-কে দাতা ও মকবুল আহাম্মদ’কে গ্রহিতা দেখিয়ে ৬৭৮৪নং দলিলে ৫ বছর পূর্বের রেজিষ্ট্রি দেখিয়ে একটি দলিল সৃজন করেন। তবে, এই দলিল নং অনুযায়ী নোয়াখালী ভূমি রেকর্ড অফিসে তালাসী দিলে এই মৌজা ও দাগে ৬৭৮৪নং দলিলের দাতা-গ্রহিতার নামের কোনো মিল নেই। এতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় ৬৭৮৪নং দলিলটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী আবু তাহের ও আমির হোসেন পুষ্প গং।

আমির হোসেন পুস্প অভিযোগ করে বলেন, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃজন করে ওই দলিল মূলে মাঠজরিপে আমাদের ছাপকবলকৃত ৮৪ শতাংশ জমি হামিদ উল্যা গং তাদের নামে রেকর্ড করে নেয়। আমরা ভূয়া দলিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। মামলা নং- সিআর-৬৮৭/২৪, তারিখ-১৭/০৭/২৪ইং। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে। তবে, জমি নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য উকিল সালিশসহ স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। এসব সালিশ বৈঠকে আমাদের পক্ষে সালিশদারগণ রায় দিলেও হামিদ উল্যা গং সালিশের রায় উপেক্ষা করে জোরপূর্বর আমাদের জমির ফসল কেটে নেয়।

অভিযুক্ত বিবাদী হামিদ উল্যার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, যেই দলিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই দলিল আমাদের নয়। আমরা এই দলিল স্বীকার করিনা। আমাদের কাগজপত্র এবং মাঠজরিপ সঠিক আছে।

এদিকে, হামিদ উল্যা গংদের চাষকৃত ধান জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে আবু তাহের গংদের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই অভিযোগের আলোকে চন্দ্রগঞ্জ থানার এএসআই আব্দুল খালেকসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে বাদি-বিবাদী কাউকে পাওয়া যায়নি।

এই সংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বের সালিশদার ফিরোজ মাহমুদ বাক্বী ও জয়নাল আবেদীনের কাছে জানতে চাইলে তারা উভয়ই জানান, স্থানীয়ভাবে উকিল সালিশসহ কয়েকবার মিমাংসা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তাদের দু’পক্ষের কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। তাছাড়া জাল দলিল সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

জমির ফসল বিনষ্টের অভিযোগে হামিদ উল্যা গংদের দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা (এএসআই) আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীপক্ষকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, উভয়পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে তাদের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার জন্য। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১