নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের পরিচালিত অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ-অভিযানটি ছিল অনেকটাই লোক দেখানো।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা নুর হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কয়েকজন খুচরা এলপিজি গ্যাস বিক্রেতাকে জরিমানা করা হলেও বড় বড় ডিলারদের গুদাম ও অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা খুচরা পর্যায়ের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জরিমানা আদায় করলেও, যারা প্রকৃতপক্ষে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্যে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত-সেই ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামে কোনো অভিযান চালানো হয়নি।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, চন্দ্রগঞ্জসহ পুরো লক্ষ্মীপুর জেলায় এলপিজি গ্যাস সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মূলত ডিলার পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত দামে গ্যাস সরবরাহ করায় খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ অভিযানের নামে শুধু ছোট ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে প্রকৃত অনিয়মকারীদের আড়াল করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডিলাররা সিন্ডিকেট করে বেশি দামে গ্যাস সরবরাহ করে। আমরা বেশি দামে কিনলে বেশি দামে বিক্রি করতেই হয়। অথচ জরিমানা হয় আমাদের, বড় ডিলাররা থাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ।’
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, ভোক্তা অধিকারের অভিযান যদি সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হয়, তবে খুচরা দোকান নয়-ডিলার পর্যায়ের অনিয়ম, অবৈধ মজুত এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিমত, এ ধরনের লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করে প্রকৃত অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্থিরতা কোনোভাবেই কমবে না।