
আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের দিঘলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সচিবের দ্বন্দ্বে অচল হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সচিব এবং সচিবের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের মানববন্ধনসহ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনেরও খবর পাওয়া গেছে। এ সময় পরিষদের সচিবের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায়, দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সচিব মিজানুর রহমানের মধ্যে পরিষদের বিভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিলনা। চেয়ারম্যানের অভিযোগ সচিব মিজানুর রহমান জন্মনিবন্ধন কার্ড সংশোধন এবং হারানো জন্মনিবন্ধন কার্ড পুনরায় তুলতে গেলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫-৬ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এছাড়াও বয়স্ক, বিধবাসহ সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ভাতা প্রকল্পে সচিব নীরিহ এলাকাবাসীকে হয়রানিসহ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।
পাশাপাশি সচিব মিজানুর রহমান পাল্টা অভিযোগে বলেন, চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা প্রদানে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এনিয়ে তিনি প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
এদিকে দিঘলী বাজার কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন জানায়, জন্মনিবন্ধনের হারানো কার্ড পুনরায় উত্তোলনে ৩ হাজার, ওয়ারিস সনদ প্রদানে ২-৩’শ টাকা ও গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মামলার সইমুহুরী নকল প্রদানে সচিব মিজানুর রহমান ২’শ টাকা করে আদায় করেন। তিনি আরো জানান, পূর্ব দিঘলী গ্রামের ফিরোজ আলমের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধন কার্ড সংশোধনে সচিব মিজানুর রহমান ৬ হাজার টাকা নিয়েছেন।
দিঘলী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সচিব মিজানুর রহমান কোন ইউনিয়নে অনিয়মের কারণে ৩ মাসের বেশি টিকতে পারেননি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার ৮ মাসের মাথায় তার বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় ১২জন সদস্যের স্বাক্ষরসহ তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত তাকে বদলিসহ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান বলেন, এরআগে সচিব মিজানুর রহমান লাহারকান্দি ইউপির সচিব থাকাকালে মশু চেয়ারম্যানের হাতে অনিয়মের কারণে লাঞ্চিত হয়েছিলেন।
অপরদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান ও সচিবের দ্বন্দ্ব নিরসণ না হলে যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসী।