নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পূর্ববাজারস্থ কারামতিয়া কামিল মাদরাসার আন্দোলনরত শিক্ষকরা থানায় মুছলেকা দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রমে যোগদান করেছেন। এতে গত ৮ অক্টোবর থেকে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটে। গত শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজিদুর রহমানের মধ্যস্থতায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফরিদা খানমের উপস্থিতিতে শিক্ষকদের বিবদমান দুইপক্ষের টানাপোড়নের অবসান হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কারামতিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসাইনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বেতন পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে গত ৮ অক্টোবর হঠাৎ মাদরাসার পঞ্চম, অষ্টম ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের মডেল টেষ্ট পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয় কতিপয় শিক্ষক। এতে নেতৃত্বে ছিলেন, আরবি বিভাগের শিক্ষক মাওঃ আব্দুস ছবুর, মাওঃ সিহাব উদ্দিন ও বহিস্কৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া হেলালী। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পেরে মাদরাসার প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। ফলে গত ৮ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মাদরাসার শ্রেণি কার্যক্রম, মডেল টেষ্ট পরীক্ষাসহ অভ্যন্তরীণ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এ সময় শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত করার জন্য শিক্ষাপ্রশাসন থেকে বার বার অনুরোধ করা হলেও কতিপয় শিক্ষকের একগোয়েমীর কারণে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয় মাদরাসাটিতে।
পরে ওসি সাজিদুর রহমান ওইসব শিক্ষককে তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে এবং মাদরাসার অচলাবস্থা দূর করার জন্য দুইপক্ষকে থানায় হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করেন। গত শনিবার বিকেলে থানায় উভয়পক্ষের বৈঠক চলাকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন কয়েকজন শিক্ষক। পরে উত্তেজিত শিক্ষক মাওঃ সিহাব উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া হেলালী, ওমর ফারুক ও মাওঃ আবু নোমানকে থানাহাজতে কয়েক ঘন্টা আটক রাখা হয়। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ খাঁন এসব শিক্ষকের দায়িত্ব নিলে মুছলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করেন তারা।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ মোশাররফ হোসাইন জানান, আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষকরা কাজে যোগদান করেছেন। পরীক্ষাসহ শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।