আকাশবার্তা ডেস্ক :
অনগ্রসর একটি গ্রামের নাম আন্দারমানিক। গ্রামটিতে আলো ছড়াচ্ছে এ.জামান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। শহর থেকে এখানে সরাসরি কোনো পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। আঁকাবাঁকা সরুপথ ধরে এ গ্রামের মানুষের চলাচল। আধুনিক যুগেও এরকম একটি গ্রামের দেখা মেলা ভার।
খানে নেই পাকা সড়ক, বিদ্যুৎ, উন্নত বাজার ব্যবস্থা, যোগাযোগের আধুনিক মাধ্যম। তারচেয়েও বড় অভাব হলো এ গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালানোর মতো ভালো কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। আন্দারমানিক গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারই শিক্ষা বঞ্চিত এবং হতদরিদ্র। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই চাষাবাদ এবং ইটভাটায় কাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন।
এ গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশুনা করাতে চেয়েও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। তাই বাধ্য হয়ে ছোট ছোট শিশুদের চাষাবাদের কাজে কিংবা ইটভাটার কাজে লাগিয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পড়াশুনার সুযোগ নেই কারণ বিদ্যালয়ে যেতে হলে প্রায় ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে হেঁটে যেতে হয়। শিক্ষার পরিবেশ ও পারিবারিক সচেতনতা না থাকায় এতটুকু ত্যাগ শিকার করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। যার ফলে শিক্ষা বঞ্চিত থেকেই যায় শত শত শিশু ছেলে মেয়ে। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৯৯১ সালে আক্তারুজ্জামান নামে এক কৃষকের জমিতে দক্ষিণ আন্দারমানিক এ. জামান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এখন পর্যন্ত ১৯নং তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্গম এ গ্রামের আলো একমাত্র এই বিদ্যালয়টি। বর্তমানে গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক ছেলেমেয়ে এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়া এই বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালের ১৫ জানুয়ারী তারিখে (স্মারক নং ২৯ রেজি:/৯৩/২৩৭/১০) এর মূলে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে চালু ও পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। মাঝখানে কিছুদিন পাঠদান বন্ধ থাকলেও ২০১০ সালের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়টির নামে সরকারি বিধি মোতাবেক ৫০ শতাংশ জমি বাংলাদেশ শিক্ষা সচিবের নামে ছাপ কবলা দলিল রয়েছে বলে জানা যায়। বিদ্যালয়টির নামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব-৭৩৩২ চালু আছে।
২০১২ সালের পর থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। তবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত কোন উপবৃত্তি ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। ফলে সরকারের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষাকার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় নুরুল আমিন জানান, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে দক্ষিণ আন্দারমানিক এ. জামান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। সরকারি সুযোগ সুবিধা না থাকায় যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের সন্তানরা। সরকারের সু-দৃষ্টিতে হয়তো এ গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াবে বিদ্যালয়টি।
লুঙ্গি পরে ক্লাস করছে মাকসুদুর রহমান নামে ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্র। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, পড়ালেখা করতে তার ভালো লাগে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাসহ খেলাধূলা থেকেও বঞ্চিত তারা। দক্ষিণ আন্দারমানিক এ.জামান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, গ্রামের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় কোনোমতে টিকে আছে বিদ্যালয়টি।
তাছাড়া শিক্ষকগণ বিনা বেতনে পাঠদান করছেন বলেই অন্তত প্রাথমিক শিক্ষাটুকু অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে এ গ্রামের ছেলেমেয়েরা। তবে এ বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করলে এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেলে এ গ্রাম শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি করণের জন্য সকল শর্ত পূরণ করেছে বিদ্যালয়টি।