আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগামীকাল শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওই দিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল প্রকাশ করবেন। একই দিন সকাল ১১টায় গণভবনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ফল প্রকাশ ও ফলের পরিসংখ্যানের কপি হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছিলেন, ৩০ ডিসেম্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে। ফলে একই দিনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলও ঘোষণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল শিক্ষা অধিপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd অথবা http://dperesult.teletalk.com.bd এ পাওয়া যাবে। যে কোন মোবাইল হতে এসএমএস এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানা যাবে।
নভেম্বরের শুরুতে দেশব্যাপী দুই হাজার ৮৩৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২৮ হাজার ৬২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থী এ দুটি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৮ জন ছাত্র এবং ছাত্রী ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজারেরও বেশি। এজন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টি বাড়ানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বাইরে সৌদি আরব, লিবিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও ওমানের মোট নয়টি কেন্দ্রে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশে নিয়েছে।
এবার থেকে জেএসসির পরীক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এই বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নম্বর পাঠায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে। এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র পরীক্ষার সময় বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর এন্ট্রি করে পাঠায়। তবে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
এছাড়া নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহু নির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশে ৩০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৭০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশে ৪০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে।
এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি পত্রে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকলেও দুটি অংশ মিলে ৩৩ পেলেই পাস বলে গণ্য হবে। এসএসসির মতো দুই অংশে আলাদাভাবে পাসের প্রয়োজন নেই।
অপরদিকে, দেশের সাত হাজার ২৬৭টি কেন্দ্রে গত ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদী সমাপনীতে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।