আকাশবার্তা ডেস্ক :
এবছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে। তবে উভয় ক্ষেত্রে পাসের হার ও জিপিএ ফাইভে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে মেয়েরা। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯৫ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।
গত বছর প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। শুধু পাসের হার নয় কমেছে জিপিএ প্রাপ্তির সংখ্যাও। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার সব সূচকেই ফল গতবারের চেয়ে খারাপ হয়েছে। গড় পাসের হার কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। এবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বছর এই দুই পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন। যা গতবার ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন।
শনবিার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলের অনুলিপি তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর সচিবালয়ে দুপুর ১টায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং দুপুর ২টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন।
ফলাফল বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ছাত্র পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মন্ত্রী জানান, এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ জন। পাস করেছে ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭১ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ১৮ ভাগ। মন্ত্রী বলেন, জিপিএ ফাইভও বেশি পেয়েছে ছাত্রীরা। মোট জিপিএ ফাইভ পেয়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন।
এর মধ্যে ছাত্র এক লাখ ১৫ হাজার ৫৪৮ জন। আর ছাত্রী এক লাখ ৪৭ হাজার ৬১ জন। গত ১৯ থেকে ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষায় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ জন এবং ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন। দেশের সাত হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে মোট ছয়টি বিষয়ে প্রতিটিতে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাসের হার কমের বিষয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার কেন কমেছে এ ব্যাপারে গবেষণা ও পর্যালোচনা ছাড়া কিছু বলা যাবে না।
তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার তিন শতাংশ কেন কমল এটা গবেষণা করে বের করতে হবে। গবেষণা বা ফল মূল্যায়ন ছাড়া পাসের হার কেন কম তা বলা যাবে না।
ওপর দিকে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত ফলাফল বিষয়ে বলেন, এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৪২ জন, যা গত বছর ছিল ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন। বেড়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৩ জন। আর এবার পাস করেছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ২৭১ জন। যা গত বছর ছিল ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন। এবার কমেছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭০৪ জন।
এবছর পাসের হার ৮৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যা গতবছর ছিল ৯৩ দশমিক ০৬। এবার কমেছে ৯. ৪১ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, এবার জেএসসি ও জেডিসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন। যা গত বছর ছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন। কমেছে ৫৫ হাজার ৯৬০ জন। এবার পাসের হার ও জিপিএ ফাইভে এগিয়ে আছে মেয়েরা। ছাত্রী পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৩ দশমিক ১৭। আর এবার ছাত্র পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এবার জিপিএ ফাইভের দিকেও এগিয়ে মেয়েরা। মেয়েদের মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৭৩০ জন। যা গত বছর ছিল এক লাখ ৪১ হাজার ২৪৩ জন। অন্যদিকে এবার ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৮০ হাজার ৮৯৮ জন। যা গত বছর ছিল এক লাখ ছয় হাজার ৩৪৫ জন। এবছর ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ২৯ হাজার ৮৩২ জন জিপিএ ফাইভ বেশি পেয়েছে। এবার শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। এবার এই সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৭টি। যা গত বছর ছিল নয় হাজার ৪৫০টি। এবার কমেছে চার হাজার ১৭১টি।
ফলাফলে পিছিয়েছে রাজশাহী বোর্ড :
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় এবার রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৬৩৩ জন। গত বছরের চেয়ে ফলাফলে পিছিয়েছে রাজশাহী বোর্ড।শনিবার দুপুরে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর তরুণ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫১ জন। এর মধ্যে অংশ নেয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ জন। পাস করেছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৩০জন। ৯৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে ছেলে এবং ৯৫ দশমিক ২১ শতাংশ হারে মেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এবার। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ২১ হাজার ২৩ জন মেয়ে এবং ১৬ হাজার ৬১০ জন ছেলে। গত বছর ২১ হাজার ৮৭৬ জন মেয়ে এবং ১৮ হাজার ৫৯৫ জন ছেলেসহ মোট ৪০ হাজার ৪৭১ জন জিপিএ-৫ পায়। গত বছর উপস্থিত মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মেয়ে এবং ৯৭ দশমকি ৪৩ শতাংশ ছেলে পাস করে। গত বছরের চেয়ে ফলাফলে বোর্ডের পিছিয়ে পড়া স্বাভাবিক বলছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, ব্যবধান যেটুকু তা সামান্যই। এমনটি হতেই পারে। তবে সার্বিকভাবে বোর্ডের ফলাফল সস্তোষজনক। এবারও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধিক প্রস্তুতির কারণে প্রত্যাশিত ফল এসেছে।
ইবতেদায়িতে ঝরে পড়েছে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী :
এবছর ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ঝরে পড়েছে ৩৯ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী। ১৩ হাজার ৩০৫টি মাদরাসা থেকে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয়। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯৯ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ইবতেদায়িতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ২৩ জন। গড় পাসের দিক দিয়ে এগিয়ে মেয়েরা।
কুমিল্লা বোর্ডের খারাপ ফলের প্রভাব সারাদেশে :
এবার জেএসসি ও জেডিসিতে পাসের হার কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ১০টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৫, যা গতবছর ছিল ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এবার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ পাসের হার কমেছে। এবারও বোর্ডগুলোর মধ্যে খারাপ ফল করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবছরও এই বোর্ডের ফলাফল ছিল সবচেয়ে কম। এই বোর্ডের ফলাফলের কারণে সার্বিক ফলাফল খারাপ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কুমিল্লা বোর্ড ধারাবাহিকভাবে খারাপ করছে। এর ফল সার্বিক ফলাফলে পড়ছে। তবে কেন কুমিল্লা খারাপ করছে সে বিষয়ে আমরা গভীরে যেতে চাই। গভীরে গিয়ে এটা নিয়ে গবেষণা করতে চাই। তবে আজকে যেহেতু ফল প্রকাশ হলো আজই তো আর এটা নিয়ে মাঠে নামা সম্ভব না। আমরা এটা নিয়ে মাঠে যাবো। পর্যালোচনা করবো। সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা ফলাফল নিয়ে গবেষণা করবো।
শূন্য পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে :
এবার শূন্য পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এই সংখ্যা ৫৯টি। যা গতবছর ছিল ২৮টি। এবার বেড়েছে ৩১টি। এবার আট হাজার ৮২৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত। যা গতবছর ছিল ২৮ হাজার ৭৪১টি। এবার বেড়েছে ৮৩টি। এছাড়াও সারাদেশে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৮৪৩টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৭৩৪টি। বেড়েছে ১০০টি।
প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হারে শীর্ষে গোপালগঞ্জ :
এবছর প্রাথমিক সমাপনী পিএসসিতে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাস করেছে গোপালগঞ্জে। শনিবার সকালে প্রকাশিত প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গোপালগঞ্জে পাসের হার ৯৯.৩৯ শতাংশ। এছাড়া জেলার ৫০৮ উপজেলা ও থানার মধ্যে তিন উপজেলায় পাসের হার শতভাগ। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম পাসের হার ঝালকাঠিতে ৮৭.৮৮ শতাংশ।
জিএসসিতে পাসে সেরা বরিশাল, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ঢাকা :
অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় আট বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে এবার সেরা বরিশাল। অপরদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে বরাবরের মতো শীর্ষে ঢাকা বোর্ড। শনিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য ধরেন। এবার জেএসসিতে পাসের হার ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আট সাধারণ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৭ জন। আট বোর্ডের মধ্যে জেএসসিতে পাসে সেরা বরিশাল। এই বোর্ডে পাসের হার ৯৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের শীর্ষে থাকা রাজশাহী বোর্ড এবার রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে, এ বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অপরদিকে গত বছরের মতো এবার পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া ঢাকায় পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৬, চট্টগ্রামে ৮১ দশমিক ১৭, যশোরে ৮৩ দশমিক ৪২, সিলেটে ৮৯ দশমিক ৪১ ও দিনাজপুরে ৮৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ঢাকা বোর্ডে এবার গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৫০২ জন কমেছে। ঢাকা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৪৮ জন। গত বছর ঢাকা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮৬ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী। গত কয়েক বছরের মতো জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সবার নিচে রয়েছে সিলেট বোর্ড। এ বোর্ডে ৭ হাজার ৬২১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ৩৭ হাজার ৬৩৩, কুমিল্লা বোর্ডে ৮ হাজার ৮৭৫, যশোর বোর্ডে ১৪ হাজার ৬১২, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১০ হাজার ৩১৫, বরিশাল বোর্ডে ৮ হাজার ৪৩১ ও দিনাজপুর বোর্ডে ২০ হাজার ৬২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দিনাজপুরের ১৩ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল :
দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ডের জেএসসি পরীক্ষায় ১৩ প্রতিষ্ঠানের একজনও পাস করেনি। এসব বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছে। যা গতবারে ছিল ৬টি প্রতিষ্ঠান। এসব বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এক থেকে ৯ জন। শূন্য ফলাফলপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলো হলো- গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কালিরকান্দা জুনিয়র স্কুল, নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর আদর্শ বালিকা বিদ্যানিকেতন, একই উপজেলার উত্তর কানিয়াল কথা জুনিয়র স্কুল, নীলফামারী ডোমার উপজেলার টিনবাট শহীদ স্মৃতি জুনিয়র হাই স্কুল, একই জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলামন্দা আদর্শ জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার রামরতন আইডিয়ার জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়, দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার মারগাঁও আদর্শ জুনিয়র স্কুল, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার লাহুচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়, একই উপজেলার বুটডাঙ্গী জুনিয়র স্কুল, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার থেপরীগঞ্জ জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয়, একই উপজেলার আপনকুকি বানজি জুনিয়র স্কুল এবং বোদা উপজেলার আরজি শিকারপুর বাগানবাড়ী মডেল জুনিয়র হাই স্কুল। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান জানান, যেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এসব বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গতবারের চেয়ে এবারে শূন্য ফলাফলপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। গতবারে ছিল ৬টি এবার তা বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিকে ৩৬০ স্কুলে কেউ পাস করেনি :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৭তে সারাদেশের ৩৬০টি স্কুলে কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। এসব স্কুলে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৫৩। শনিবার দুপুর ১টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৩৬০টি স্কুলে কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। তবে কোনও শিক্ষার্থী পাস না করা স্কুলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে আনন্দ স্কুল। তাদের সংখ্যা ৭৫। এছাড়া ৬৮টি কিন্ডার গার্টেন ও সমসংখ্যক নন রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। আর নতুন জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৬টিতেও কোনও শিক্ষার্থী পাস করেনি। কোনও শিক্ষার্থী পাস না করা স্কুলের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি এমন স্কুলের মধ্যে সরকারি স্কুল রয়েছে ১০টি, রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২টি, অস্থায়ী রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি, কিন্ডার গার্টেন ৬৮টি, এনজিও ৪৬টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭টি, নন রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৮টি, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি, ব্র্যাক স্কুল ১টি, আনন্দ স্কুল সবচেয়ে বেশি ৭৫টি, শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি, ১৫০০ বিদ্যালয় ৩টি ও নতুন জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৬টি।