আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হবে। এক সময় তোমরাই দেশ চালাবে। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে গণভবনে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের একমাত্র সম্পদ হলো শিক্ষা, যা কেউ তা কেড়ে নিতে পারে না। লেখাপড়া ছাড়া মানুষের মতো মানুষ হওয়া যায় না, দেশকে ভালোবাসতে হলে লেখাপড়া শিখতে হবে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে, সুশিক্ষিত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলবে। তোমাদের ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে, নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের সব শিশুকেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। কারণ, জীবনের একমাত্র সম্পদ হলো শিক্ষা যা কেউ তা কেড়ে নিতে পারে না, চুরি করতে পারে না। ছেলে-মেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতি শিক্ষাদীক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে, সন্মান নিয়ে বাঁচবে, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সেজন্য স্বাধীনতার পরই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেছেন। শিক্ষাকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।’
বিএনপির আমলে পাসের হার না বেড়ে কমেছে-এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতা ছেড়ে দেই তখন পাসের হার ছিল ৬৫.৫ শতাংশ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সে হার আরও কমে যায়। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষা অন্ধকারের যুগে ছিল। ২০০৯ সালে এসে দ্রুত শিক্ষার হার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেই। বর্তমানের হিসাব অনুযায়ী শিক্ষার হার ৭২ শতাংশ। তবে বাস্তবে আরও বেশি হবে।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। কোন কোন বিষয় কীভাবে পড়তে হবে তার সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার মানোন্নয়নে নজরদারি বজায় রাখতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দরকার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া কোনো দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারবে না।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির যুগে বিশ্ব খুব কাছের হয়ে গেছে। মানুষও বেশ তাড়াতাড়ি তা গ্রহণ করতে পারছে এবং শিখতে পারছে।
অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, বাংলাদেশকে যেন হাত পেতে চলতে না হয়। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের ফলাফল ভালো হয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী যাদের ফল ভালো হয়নি, তাদের পরবর্তীতে আরও ভালো করার জন্য পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।