সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

মন্ত্রী হওয়ার ডাক পেয়েছেন ৪ জন, মঙ্গলবার শপথ

আকাশবার্তা ডেস্ক :

অবশেষে মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে। মন্ত্রি হিসেবে শপথ নিতে বঙ্গভবনে মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) ডাক পড়েছে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র। একইসঙ্গে রাজবাড়ী -১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বঙ্গভবনে ডাকা হয়েছে। এই তিনজনকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য করা হবে। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ড. আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এমপি শামীম ওসমান ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর মধ্য থেকে কাউকে ডাকা হতে পারে। বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (০১ জানুয়ারি) নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আজ (সোমবার) দুপুরে আমাকে ফোন করেছিলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কাজী কেরামত বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব দুপুরে ফোন করেছিলেন আমাকে। কাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলেছেন। একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন আমি পেয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাব। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারকেও ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদে রদবদলের লক্ষ্যে তাদের ডাকা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোস্তফা জব্বার এমপি নন। তাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর পদটি শূন্য রয়েছে। এই পদে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ নিয়োগ পেতে পারেন।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ যাত্রায় মন্ত্রিপরিষদে ৬ থেকে ৭ জন সদস্য অন্তর্ভূক্ত হতে যাচ্ছেন। তাদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গাড়ীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাকী আর কে কে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এমপি শামীম ওসমান, ড. আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, ড. হাছান মাহমুদ ও ডা. দীপু মনি এদের কাউকে ডাকা হতে পারে। আবার বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তাদের কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন খারাপ পারফরমেন্সের জন্য। চূড়ান্ত সবকিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার উপর। আর কাকে কোন দফতর দেবেন তাও শপথের পর প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করে দেবেন।

কেন এই রদবদল?
আওয়ামী লীগের মধ্যে সরকার থেকে দলকে আলাদা করার একটা চেষ্টা রয়েছে। অর্থাৎ যিনি মন্ত্রী হবেন, তাকে দলের দায়িত্ব না দেওয়া। কিংবা যিনি দলের দায়িত্বে আছেন, তাকে মন্ত্রী না করা। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে গত সম্মেলনে অনেক মন্ত্রীই দলীয় পদ পাননি। আরেকটি কারণ হচ্ছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিতর্ক, অনিয়ম ও পারিবারিক বদনাম। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি তারেক সাঈদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী মায়ার ওপর কিছুটা রুষ্ট হন।

২০১৫ সালে ব্রাজিল থেকে নিম্নমানের গম আমদানির কারণে কেলেঙ্কারির জন্ম দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এছাড়া যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মামলার রায় নিয়ে এক সেমিনারে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ ঘটনায় আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উচ্চ আদালত। অদক্ষতার কারণেও কিছু কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাদ যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দলের যেসব নেতা প্রায় আট বছরের ক্ষমতাকালে সরকারি দায়িত্ব পাননি, তাদের কথা বিবেচনায় নেয়া হতে পারে।

বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও ২ জন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৫জন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী। এই মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির তিনজন, ওয়ার্কার্স পাটির ও জাসদের একজন করে স্থান পান। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি পায়। শপথ নেন এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে আমেরিকা সফরে গিয়ে হজ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে অক্টোবরে বাদ পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

পরের বছরের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে যুক্ত করা হয়। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন ইয়াফেস ওসমান ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় খোন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। প্রথমে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন, পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930