আকাশবার্তা ডেস্ক :
অভিযানে অবৈধদ্রব্যের ব্যবহার কমে-লোকে এমনটিই জেনে আসলেও ব্যতিক্রম পলিথিন। পরিবেশ অধিদফতর গত ৮ বছর ধরে অভিযান চালানোর পরও কমছে না পলিথিনের ব্যবহার বরং দিনেদিনে বাড়ছে। রাজধানীর বড় বড় বাজারের পাশাপাশি সারাদেশের হাট-বাজার ও অলিগলির দোকানপাট পলিথিনে সয়লাব। ফলে পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিমত পরিবেশবিদদের।
এদিকে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আগের তুলনায় পলিথিন মুক্ত অভিযান এখন আরও জোরদার করা হয়েছে। তারপরও বর্তমানে বাজারে পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার কেনÑএমন প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ অধিদফতরের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, উন্নত জীবনমানের সাথে পলিথিন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদি ব্যবহৃত পলিব্যাগ রিসাইক্লিং করা যায় তা হলে এর প্রভাব পরিবেশে অতটা পড়বে না। তিনি বলেন, দেখুন বিশ্বের অসংখ্য দেশে এ ধরনের পলিথিন চালু আছে। তারা যেটা করে, ব্যবহৃত পলিথিন সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে ব্যবহারের পর তা পুনরায় কালেকশন করে এবং তা দিয়ে বদনা, বালতিসহ নানা ব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরি করে।
আবুল কালাম আরও বলেন, আইন প্রণয়নের পরবর্তী সময়ে রফতানিকৃত সকল পণ্যের মোড়কের ক্ষেত্রে, রেণুপোনা পরিবহনের জন্য, পণ্যের গুণগতমান রক্ষার স্বার্থে প্যাকেজিংকাজে ব্যবহারের জন্য, মাশরুমচাষ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য এবং নার্সারির চারা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য পলিথিন ব্যবহারে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়। ফলে কোনো পলিথিন কারখানায় অভিযানে গেলে তারা বিভিন্ন প্রোডাক্টের কথা বলে পলিথিন তৈরি করছে বলে জানান। আবার বাজারে গিয়েও অভিযান চালানো হয় বলে জানান আবুল কালাম আজাদ। তিনি আরও বলেন, দেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাগুলো যদি দায়িত্ব নিয়ে এ ব্যবহৃত পলিথিনের বর্জ্যগুলো রিসাইক্লিলিং করতো তাহলে আমাদের এতো সমস্যায় পড়তে হতো না।
এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকবল আশানুরুপ না পাওয়ায় মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালানো দুরুহ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি বাজারে পলিথিন ব্যতীত অন্য কোনো কাগজের ব্যাগে নিত্যপণ্য দেয়া হয় না। ক্রেতা ও বিক্রেতা পুরোদমে সেই নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন ব্যবহার করেই যাচ্ছে। বাজার তো বটেই, পাড়ার মুদি দোকানগুলো এমনকি ভ্যানে করে সবজি বিক্রয়সহ নানা অভিজাত বিপণীবিতানে মিলছে অবাধে পলিথিনের ব্যবহার। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, ২০০২ সালে প্রথম পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম এবং ব্যবহার বন্ধে আইন পাস হয়। এ আইন অমান্য করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর বাজারজাত করলে ছয় মাসের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারাদেশে পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন শপিংব্যাগের বিরুদ্ধে ৩,১৮৬টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ৮৭৭ টন পলিথিন জব্দ ও ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।