বুধবার ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

ছাত্রলীগের সম্মেলন ঘিরে ফের উত্তাপ

নতুন কমিটিতে পদ-প্রত্যাশী একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা নানাভাবে নতুন কমিটির দাবি জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নতুন কমিটির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে। সংগঠনের স্থবিরতা কাটাতে এবং আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য কর্মীদের সক্রিয় করতে নতুন কমিটির কোনো বিকল্প নেই। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১১ ধারার ‘ক’ উপধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ২৫১ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে বলে উল্লেখ আছে।

আকাশবার্তা ডেস্ক :

সংস্কারপন্থী বা অযোগ্য কেউ যাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান না পায় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশী নেতা-কর্মীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বর্তমান কমিটিকে বিগত দিনে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়নি বলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগ্য, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব তৈরির আশায় সংগঠনটির তৃণমূল থেকে শুরু করে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ফের উত্তাপের ছোঁয়া বইছে। এর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সম্মেলনের প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে দলের সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সম্মেলন স্থগিত করার কথা বলে আগামী মার্চে সম্মেলন করার ঘোষণা দেন।

এদিকে বর্তমান কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনকে নিয়ে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের কমিটি চলছে দুই বছর পাঁচ মাস। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পাঁচ মাস পর নতুন করে ২৯তম জাতীয় সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাছাড়া মার্চ মাসের মধ্যেই সম্মেলন করার ইচ্ছে পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে পদ-প্রত্যাশী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দৌড়ঝাঁপ। শুধু তাই নয় এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জন। ছাত্রলীগের একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, বর্তমানের এ কমিটিতে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়নি। তাই আগামী নির্বাচনের কঠিন সময়কে সামনে রেখে যোগ্য, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। নেত্রীর কাছে এমনটিই প্রত্যাশা তাদের।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যেতে আগ্রহী নেতা-কর্মীর সংখ্যা অনেক। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংগঠনটির শীর্ষ দুই পদ পেতে বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মেহেদি হাসান রনি, আল আমিন, রুহুল আমিন, সোহান খান, চৈতালী হায়দার চৈতি, জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম, সায়েম খান ও শাহিদুল হক শাহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে সৈকতুজ্জামন সৈকত, আশিকুল পাঠান সেতু, দারুস সালাম শাকিল, মশিউর রহমান শরিফ, বিএম এজতেশাম ও শেখ জসিম উদ্দিন প্রমুখ প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া বর্তমান কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াজ, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হাসান, পরিবেশ সম্পাদক এবিএম হাবিবুল্লাহ, ক্রীড়া সম্পাদক চিন্ময় রায়, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামিম, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হালদার, উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকতে চান। বর্তমান কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের একটা সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে। কিন্তু এখনও নির্দিষ্ট সময় ঠিক হয়নি। সম্ভাব্য এ অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা সম্ভব।

সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে সংগঠন থেকে আমাদের যেদিক-নির্দেশনা দিবে তা আমরা দায়িত্বে সঙ্গে পালন করব। বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মেহেদি হাসান রনি বলেন, কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংগঠনের নতুন কমিটি দেওয়াটা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে তৃণমূলে ক্ষোভ ও হাতাশা আরও বাড়বে। নতুন কমিটি না হওয়ায় বিশৃঙ্খলা ও কোন্দল তৈরি হচ্ছে। তবে নতুন কমিটিতে সংস্কারপন্থী বা অযোগ্য কেউ যাতে স্থান না পায় সে ব্যাপারে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নতুন কমিটিতে পদ-প্রত্যাশী একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা নানাভাবে নতুন কমিটির দাবি জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নতুন কমিটির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও হয়েছে। সংগঠনের স্থবিরতা কাটাতে এবং আগামী নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য কর্মীদের সক্রিয় করতে নতুন কমিটির কোনো বিকল্প নেই। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১১ ধারার ‘ক’ উপধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ২৫১ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে বলে উল্লেখ আছে।

তবে ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল ২৭০ জনকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নেতা মনোনীত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের কমিটিতে ৩০১ জনকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর বাহিরেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও কলেজ কমিটি অনুমোদনের সময় শতাধিক কর্মীকে কেন্দ্রীয় নেতা করা হয়েছে। ফলে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে কেন্দ্রীয় নেতার সংখ্যা কত, তা সঠিকভাবে কেউ জানাতে পারেন নি।

২০১৫ সালের ২৬ জুলাই ২৮তম সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছিল ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের মেয়াদ দুই বছর। অথচ কমিটির প্রায় ২৯ মাস পর হলেও নতুন করে সম্মেলনের কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যথাসময়ে সম্মেলন দেওয়ার কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৬ জানুয়ারি শোভাযাত্রার আগে সমাবেশে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ছাত্রলীগকেই এর তারিখ ঠিক করার কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। আগামীর নতুন কমিটিতে দক্ষ ও যোগ্য নেতারাই আসবে বলে আশা করি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০