আকাশবার্তা ডেস্ক :
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনিশিয়ান (দন্ত বিভাগ) মো. নাসির উদ্দীন প্রায় ১৫ বছর অফিস না করেও বেতন উত্তোলন করে আসছেন বলে জানাগেছে। গতকাল বুধবার সরেজমিন হাসপাতালে গেলে জানা যায়, মো. নাসির উদ্দীন ২০০৩ সালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনিশিয়ান (দন্ত বিভাগ) হিসেবে যোগদান করেন।
যোগদানের পর থেকেই তিনি এখানে অফিস করেন না। হাসপাতালে তার বসার চেম্বার কোথায় তা তিনি নিজেও জানেন না। তালা হাসপাতালের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাজিরা খাতা ও বেতন শিটে ভুয়া স্বাক্ষর করে দিব্যি বেতন উত্তোলন করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড্ডায় নিজস্ব বাসভবনের সাথে ক্লিনিক স্থাপন করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২-৩ মাস পর পর তালা হাসপাতালে বসন্তের কোকিলের মতো নাসির উদ্দীনের দেখা মেলে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে নাসির উদ্দীন তার বেতনের বড় একটি অংশ পান না। ওই টাকা হাসপাতালের সিন্ডিকেট চক্র ভাগাভাগি করে নেয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে মাঠে নেমে পড়ে ওই সিন্ডিকেট চক্রটি। তারা সংবাদটি পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য ইতোমধ্যে প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। সূত্রটি আরো জানায়, শুধু নাসির উদ্দীন নয়, হাসপাতালের ডাক্তারসহ অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনের পর দিন অফিসে না এসেই বেতন উত্তোলন করেন। এসব ঘটনার নেপথ্যে কাজ করে হাসপাতালের ওই সিন্ডিকেট চক্রটি। চক্রটি কোনো কোনো সময় বাহির এলাকা থেকে আসা স্টাফদের জিম্মি করে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনা অকপটে স্বীকার করে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘তালা থেকে বদলির জন্য বহুদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কদিন আগেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট থেকে বদলির জন্য ফরোয়ার্ডিং নিয়েছি কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কুদরত-ই-খুদা বলেন, তিনি হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে মেডিকেল টেকনিশিয়ান মোঃ নাসির উদ্দীনকে মাত্র ২-৩ দিন দেখেছেন। মাঝে মাঝে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি ছুটিতে আছেন।
উল্লেখ্য, তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ওই মানববন্ধন কর্মসূচি ও পথসভার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী। এসব ঘটনার তদন্তেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে থলের বিড়াল। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা সিভিল সার্জন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।