আকাশবার্তা ডেস্ক :
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। সাধারণ মানুষ ভাবছেন হয়তো সাজা হলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন খালেদা জিয়া বা তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। অনেকেই বলছেন এ জন্যই রাষ্ট্রপক্ষ গত ৮ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৪ মামলার কার্যক্রম রাজধানীর বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তর করেছেন। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থান সঙ্কুলান না হওয়া ও নিরাপত্তার কারণে মামলাগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে। যদিও এর আগে থেকেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে। যদি সাজা হয় তাহলে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আমার সংবাদকে বলেন, আমার মনে হয় না আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা দিবেন। যদি সাজা দিয়েই দেন সেক্ষেত্রে আমরা আপীল করব। তিনি আরও বলেন, যেমনটি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আপীল করে নির্বাচন করেছিলেন।
বিএনপির অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান বলেন, এ মামলায় সাজা দেওয়ার মতো উপাদান নাই। যদি আদালত সাজা দিয়েই দেন সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ সিনিয়র আইজীবীদের মতামত নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে টানা ৯ কার্য দিবস অর্থাৎ গত ২০, ২১, ২৬, ২৭, ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ারপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়া এ মামলায় খালাস পাবেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গত ১৯ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তিনি খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর যাবজ্জীবন কারাদ- দাবি করেন। এ মামলার অপর আসামিরা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এদের প্রত্যেকের ৭ বছর করে কারাদ- দাবি করেন। যে ১৪ মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে ৯টি, বিশেষ জজ আদালতে ৩টি ও ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২টি মামলা বিচারাধীন আছে। মামলাগুলোর মধ্যে দুর্নীতির ৩টি মামলা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা। বাকি ১০টি মামলা ২০১৫ সালে, আর একটি ২০১৬ সালে করা যা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষ এবং খালেদা জিয়া ও অন্য আসামিদের পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ তারিখ ঘোষণা করেন। এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এ দুইটি মামলায় হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। এ মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খ-নের জন্য ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এদিন সকাল ১১টা ৭ মিনিটে দ্বিতীয় দিনের মতো মামলার আরেক আসামি সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান, জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এরপর গত বুধবার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদেরপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। টানা ৯ কার্য দিবস অর্থাৎ গত ২০, ২১, ২৬, ২৭, ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ারপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবীরা।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গত ১৯ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে তিনি খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর যাবজ্জীবন কারাদ- দাবি করেন। এ মামলার অপর আসামিরা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এদের প্রত্যেকের ৭ বছর করে কারাদ- দাবি করেন। উল্লেখ্য, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।