আকাশবার্তা ডেস্ক :
যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে শেখ হাসিনা সেনানিবাস উদ্বোধন এবং সদর দফতর ৭ পদাতিক ডিভিশনসহ ১১টি সদর দফতর/ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। যে কোনো দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়ে আসছে।
‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে দুর্গতদের সাহায্য, সহযোগিতা করে সশ্রস্ত্র বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গণে সেনাবাহিনীর সুনামের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি ‘ব্র্যান্ড নেম’। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলায় নবনির্মিত দেশের ৩১তম ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাসে’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে ৩০টি সেনানিবাস থাকলেও এতদিন দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কোনো সেনানিবাস ছিল না। দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হতো।
জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাসহ দক্ষিণ উপকূলের ৬ জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মেকাবেলায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার দেড় হাজার একর এলাকায় আনুষ্ঠানিক সূচনা হল ১৭ হাজার জনবলের নবনির্মিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস।
অল্প সময়ের মধ্যে পায়রা নদীর পাড়ে এই লেবুখালীতে নতুন একটি সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় আপনারা সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব একটি সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করার জন্য সেনাবাহিনী প্রধান, এরিয়া কমান্ডার যশোর এরিয়া ও এই ডিভিশনের জিওসি সহ সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই নবগঠিত ডিভিশন, ব্রিগেড এবং ইউনিট সমূহের প্রতিটি সদস্য মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে সাহসিকতার সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাবে। ‘এ এলাকায় সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মধ্যে নতুন আশা জোগাচ্ছে এবং আপনাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে।’
সেনাবাহিনীর সঙ্গে পারিবারিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে রয়েছে আমাদের সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন। আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।
তিনি বলেন, ছোট ভাই রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকেরা সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি আপনাদের মাঝে আমার হারানো ভাইদের খুঁজে পাই। সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমিক, পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানের আধুনিক বাহিনীতে উন্নীত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে এই ডিভিশনটি স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ৭ পদাতিক ডিভিশনকে পূর্ণতা দেয়ার লক্ষ্যে ডিভিশন সদর দফতর এবং দুইটি ব্রিগেড সদর দফতরসহ মোট ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করা হয় অনুষ্ঠানে।
এর আগে সকাল সোয়া ১১টার সময় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে সেনানিবাসের বরিশাল অংশের বাকেরগঞ্জ পৌঁছান শেখ হাসিনা। পরে পটুয়াখালীর লেবুখালী অংশে যান এবং রাষ্ট্রীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন। সেনানিবাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আলম। নতুন এ সেনানিবাস উদ্বোধনের পাশাপাশি সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হল, এসএম ব্যারাক, অফিস ভবনসহ ১৫টি স্থাপনা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।