আকাশবার্তা ডেস্ক :
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাদণ্ড পেয়ে জেলে যেতে হয়েছে। এই অবস্থায় দলের নেতৃত্ব দেবেন একই মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে খালেদার সাজা ঘোষণার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানিয়েছেন। বিএনপির সবশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই তারেকের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা সুবিচার পাইনি। আইনজীবীরা সন্দেহাতীতভাবে খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করলেও এই রায় দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, চেয়ারপারসনের অবর্তমানে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) দলের দায়িত্বে থাকবেন। তারেক দেশের বাইরে থেকে কিভাবে দল চালাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই যুগে যিনি যেখানে থাকুন না কেন, তিনি নির্দেশ দিতে পারবেন। অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। সুস্থ হলে এবং সম্ভব হলে তিনি দেশে আসবেন। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আশা করি সেখানে আমরা সুবিচার পাবো।
সবশেষ বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়া তার সংবাদ সম্মেলনেও বলেন, দলের নীতি-নির্ধারকরা যাকে নেতা নির্বাচিত করবেন, তিনিই বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বাকি চার আসামি হলেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই কোটি দশ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো: আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন।
এএইচ/আবার্তাবিডি