আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, আদালতের এই রায়ের ফলে বিএনপি আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। বিএনপির রাজনীতির ইতি টানা হলো। তারা আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে স্বাগত জানিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা একথা বলেন।
পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সূত্রপাত করেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আলোচনায় অংশ নেন জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার শাস্তিকে ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত’ উল্লেখ করেন তারা।
নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা জিয়া?
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ হয়েছে অর্থদণ্ডও৷ এখন তিনি কারাগারে৷ এখন প্রশ্ন হলো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন কি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?
বাংলাদেশের সংবিধনের ৬৬(১) অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্যতার ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘‘তিনি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে৷”
আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি আইনত আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না৷
তবে বিচারিক আদালতের রায় যদি আপিল আদালত স্থগিত করে আপিলের জন্য গ্রহণ করে, তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য এই অনুচ্ছেদ বাধা নয়৷ সেক্ষেত্রে তিনি জামিনও পেতে পারেন৷
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ/এএইচ