বিশেষ প্রতিবেদন :
‘লিভ টুগেদার’ এটি ইংরেজি শব্দ, যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় একসাথে থাকা। কিন্তু ‘লিভ টুগেদার’ শব্দটিকে একটা বিশেষ অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড বিয়ের আগে যখন স্বামী স্ত্রীর ন্যায় একসাথে থাকে তখন তাকে ‘লিভ টুগেদার’ বলে। এটি আমাদের সমাজে নিষিদ্ধ।
তবে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এই রীতিটি বেশ চালু রয়েছে। বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড গা্র্লফ্রেন্ড একসাথে থাকতে শুরু করে। তাদের ধারণা একটি মানুষের সাথে আজীবন থাকার উদ্দেশ্যেই বিয়ে করা হয়ে থাকে। কিন্তু মানুষটির সাথে মনের মিল হবে কি না তা না থেকে বোঝা যায় না। তাই বিয়ের আগেই তারা প্রিয় মানুষটির সাথে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। মনের মিল হয়ে গেলে তারপরে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এমনও দেখা গেছে যে ছেলে মেয়েসহ তারা বিয়ের আসরে বসেন।
আমাদের দেশে লিভ টুগেদার নিষিদ্ধ হলেও স্বামী-স্ত্রী না হওয়া সত্ত্বেও ওই পরিচয়ে লিভ টুগেদার করছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিভ টুগেদারের বিষয়টি আলোচনায় চলে এসেছে। লিভ টুগেদার তাদের জীবনে ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে এনেছে।
জানা গেছে, শারীরিক আকর্ষণ হোক বা নিজেকে অতিরিক্ত স্মার্টলি উপস্থাপনের জন্যই হোক বাংলাদেশে ‘লিভ টুগেদার’ কালচারটির সাথে এদেশের ছেলে মেয়েরা বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এর শেষ পরিণাম কি হচ্ছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই ‘লিভ টুগেদার’ এর শেষ পরিণতি হয় বিচ্ছেদ।
ব্যাপারটা হল কিছুটা এমন যে, ফেসবুকে যে মানুষটাকে নিয়ে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয়েছিলো এক সময় সেই মানুষটার স্থান হয় ব্লক লিষ্টে। অনেকক্ষেত্রে আরো ভয়ংকর কিছু ঘটে যায়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীতে ১০টি হত্যাকান্ড এবং ৭টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, এর নৈপথ্যে রয়েছে লিভ টুগেদার সম্পর্ক। এসব ক্ষেত্রে খুনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে ‘লিভ টুগেদার’ করছে প্রেমিক-প্রেমিকারা। পরে মেয়েটি প্রেগনেন্ট হয়ে পড়লে পালিয়ে যায় ছেলেটি। এর শেষ পরিণতি হয় মেয়েটির আত্মহত্যা।