নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে শিলা আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত শিলা উপজেলার গোপালপুর দ্বারিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও দুলাল হোসেনের মেয়ে। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, সকালে গোপালপুর দ্বারিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির কোচিং শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষা চলছিল। এ সময় নকল করার দায়ে শিলা আক্তারের পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায় বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত সহকারি শিক্ষক শরীফ আহমদ। কিছুক্ষণ পর শিলা কান্নাকাটি করে স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা শহরের আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতিতে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের মা’ নুরজাহান বেগম গণমাধ্যমকে জানান, স্কুল শিক্ষক শীলার পরীক্ষার খাতা নিয়ে যাওয়ার পর শিলা কান্নাকাটি করছে এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে যাই। পথেই তাকে অসুস্থ্য দেখে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক কর্তৃক লাঞ্চনা ও মারধরে মারা গেছে শীলা।
এদিকে সহপাঠিরা জানিয়েছেন, খাতা নিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরে অভিভাবককে জবাব দেয়ার ভয়ে স্থানীয় একটি দোকান থেকে কীটনাশক পান করে শিলা।
বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, ওই ছাত্রী পড়ালেখায় দুর্বল ছিল। নকল করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক তার খাতা নিয়ে যায়। তাকে লাঞ্চনা কিংবা মারধর করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তবে বিকাল ৩টার পর বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। থানার ওসি মো. মোক্তার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কেন কী কারণে মারা গেছে তা জানাতে পারেনি এই কর্মকর্তাসহ কেউ।
এদিকে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেনও ময়নাতদন্ত ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছেনা বলে জানান।