আকাশবার্তা ডেস্ক :
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী সপ্তাহেই জামিনে মুক্তি পাবেন আশা করে তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলছেন দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (৯মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। কারাগারে রেখে যারা নির্বাচনের কথা ভাবছেন তারা অলিক স্বর্গে বাস করছেন।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে প্রমাণ করে সরকার যা চাইছে তা বলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে আরেকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানোর হন্য এ কমিশনকে বসানো হয়েছে। ‘সমস্ত রাজবন্দীদের মুক্তি দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আপনাদের আর নেই’।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টি (একাংশ) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় পার্টির (একাংশ) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ২০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসক্লাবে অপর এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করি। আমরা তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।
মওদুদ বলেন, যখন কোন সরকারের পতন আসন্ন হয় তখন দিন দুপুরে অরাজকতা সৃষ্টি করে। এতো বড় জনসভা করেন, এতো জনপ্রিয়তা আপনাদের। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুন না। তখন বুঝা যাবে কতো জনপ্রিয়তা আপনাদের।
এসময় মওদুদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে নির্বাচনের ভোট চাওয়া অনৈতিক, অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি তা পারেন না। একের পর এক প্রকল্প দিয়ে বলছেন নৌকায় ভোট দিতে।
তিনি ভোট চাইতে পারেন না। তবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নিজের খরচে ভোট চাইতে পারেন। আর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে যদি আপনি ভোট চাইতে যান তাহলে বিএনপির চেয়ারপার্সনকেও একইভাবে ভোট চাইতে দিতে হবে।
প্রেসক্লাবের সামনে ড্যাব আয়োজিত মানববন্ধনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা দখল অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে সরকার। তাহলে আপনারা (সরকারকে উদ্দেশ্য করে) বলে দেন যে এখানে গণতন্ত্রের প্রয়োজন নেই। সাহস থাকলে বলে দিন, আপনাদের জনগণের ভোট প্রয়োজন নেই ভোটাধিকার প্রয়োজন নেই।
দুই কোটি টাকার বিচার করছেন, দুই লক্ষ কোটি যারা চুরি করছে তাদের কি হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এর বিচার হবে।
এদিকে, খালেদা জিয়া আগামী রোববার জামিন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে যান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, ‘১৫ দিনের মধ্যে নথি আসার কথা, ওই সময়সীমা শেষ হয়েছে। আজ ১৬ দিন চলছে।’ তখন আদালত বলেন, ‘আমরা তো ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দিয়েছিলাম, ১৫ দিনের মধ্যে নথি পাঠাতে। নথি এসেছে কি?’
জবাবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘নথি এসেছে কিনা, জানি না। এখন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি আদেশের জন্য রাখা হোক।’ এরপরই আদালত বলেন, ‘আগামী রোববার বিষয়টি আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসবে।’
উল্লেখ্য,গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়। রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন তিনি।
সূত্র : এএইচ/আকাশবার্তা