আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় স্বামী আবু তাহেরকে (৫৫) জবাই করে হত্যার পর লাশ সেফটিক ট্যাংকিতে গুম করে রাখে স্ত্রী। ঘটনার তিনদিন পর মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতক স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের রেহান উদ্দিন জমাদার বাড়ির একটি সেফটিক ট্যাংক থেকে হতভাগ্য স্বামী আবু তাহেরের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। এরআগে গত বুধবার (২৫ জানুয়ারি) স্ত্রী তার সহযোগীদের নিয়ে স্বামীকে জবাই করে হত্যা করে।
নিহতের বড় ভাই থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়রী করলে পুলিশের তদন্তে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যা ও লাশ গুমের স্বীকারোক্তি দেয় সে। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে হত্যায় জড়িত অন্যান্যদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। নিহত আবু তাহের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। ১৬/১৭ বছর আগে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে আবু তাহেরের বিয়ে হয়ে। তাদের সংসারে দুইটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে দীর্ঘদিন থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এনিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম জানান, তিনদিন আগে গত ২৫ জানুয়ারি বুধবার থেকে তার ভাই নিখোঁজ হয়। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকলস্থানে খোঁজ নিলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার দুইদিন পর শুক্রবার সকালে রায়পুর থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়রী) করেন তিনি। জিডি করার পর পুলিশ তদন্তে যায়। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ হলে স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হয়। এতে সহযোগীদের নিয়ে স্বামীকে জবাই করে হত্যা করার দায় স্বীকার করে সে। পরে তার তথ্যমতে সেফটিক ট্যাংক থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ শেখ শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।