আকাশবার্তা ডেস্ক :
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৬টি জেলার ৩৮টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনে ৩০০ আসনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১৪ মার্চ) কমিশন বিকেলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত তালিকাটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কমিশন সভায় এই খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব সাংবাদিকদের ঢাকার ৫টি, নারায়ণগঞ্জের ২টি, নীলফামারীতে ২টি, রংপুরে ৩টি, কুড়িগ্রামে ২টি, পাবনায় ২টি, মাগুরায় ২টি, খুলনায় ২টি, সাতক্ষীরায় ২টি, জামালপুরের ২টি, শরীয়তপুরের ২টি, মৌলভীবাজারেরর ২টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২টি, কুমিল্লার ৪টি, নোয়াখালীরর ২টি এবং চট্টগ্রামের ২টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করার পর কারো কোনো দাবি আপত্তি থাকলে ১ এপ্রিল বিকেল ৫টা পর্যন্ত কমিশন বরার আবেদন করতে পারবেন। কমিশন দাবি আপত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বলেও জানান সচিব।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচন হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর আগে ১৯৮৪ সালে প্রথম এবং ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় সীমানা পরিবর্তন করা হয়।
তবে সীমানা সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয় ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হার মেনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে জিআইএস পদ্ধতি অনুসরণ করে শতাধিক সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনা হয়।
আর দশম সংসদ নির্বাচনে আগের কমিশনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ৫০টি আসনে ছোটখাটো পরিবর্তন আনে রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন। বর্তমান কমিশন গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ভোট নিয়ে যেসব প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে আছে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টিও।
গত ১৫ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সফরে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ৬০ থেকে ৭০টি আসনের সীমানা পরিবর্তন হবে বলে জানান। সেদিন তিনি বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময়, নদী ভাঙন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ৩০০টি আসনের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ টির আসনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হতে পারে এবার।’ তবে শেষ পর্যন্ত এর অর্ধেক আসনে পরিবর্তনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
যেসব আসনের সীমানা পরিবর্তন হচ্ছে সেগুলোর তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে আজই প্রকাশ হবে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘কারও আপত্তি থাকলে আগামী ১ এপ্রিল বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। কমিশন দাবি আপত্তি নিস্পত্তি শেষে ৩০ এপ্রিল সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।’
চলতি সংসদের মেয়াদ আছে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের পর ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি বসে সংসদের প্রথম অধিবেশন। নবম সংসদে সংশোধন করা সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে হতে হবে নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রস্তাবিত পুনর্গঠিত নির্বাচনী এলাকা : পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড় সদর উপজেলা, তেতুলিয়া উপজেলা এবং আটোয়ারী উপজেলা), পঞ্চগড়-২ (বােদা উপজেলা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা), ঠাকুরগাঁও-১ (ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা), ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাংগী উপজেলা, হরিপুর উপজেলা এবং রাণী শংকাইল উপজেলা), ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ উপজেলা), দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ উপজেলা এবং কাহারােল উপজেলা), দিনাজপুর-২ (বােচাগঞ্জ উপজেলা এবং বিরল উপজেলা), দিনাজপুর-৩ (দিনাজপুর সদর উপজেলা), দিনাজপুর-৪ (খানসামা উপজেলা এবং চিরিরবন্দর উপজেলা), দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর উপজেলা এবং (খ) ফুলবাড়ী উপজেলা), দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ উপজেলা, বিরামপুর উপজেলা, হাকিমপুর উপজেলা এবং ঘােড়াঘাট উপজেলা), নীলফামারী-১ ( ডােমার উপজেলা এবং ডিমলা উপজেলা), নীলফামারী-২ ( নীলফামারী সদর উপজেলা), নীলফামারী-৩ (জলঢাকা উপজেলা), নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর উপজেলা এবং কিশােরগঞ্জ উপজেলা), লালমনিরহাট-১ ( পাটগ্রাম উপজেলা এবং হাতীবান্ধা উপজেলা), লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ উপজেলা এবং আদিতমারী উপজেলা), লালমনিরহাট-৩ (লালমনিরহাট সদর উপজেলা), রংপুর-১ (গংগাচরা উপজেলা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ ব্যতিত রংপুর সিটি কর্পোরেশন), রংপুর-২ (তারাগঞ্জ উপজেলা এবং বদরগঞ্জ উপজেলা)।