
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে জনতা ডিগ্রী কলেজের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন পালন করছেন।
আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩০ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় জনতা ডিগ্রী কলেজের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেমিক দিঘলী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন, প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু। মামলা নং-৫১/১৭, তারিখ-২৯/০১/২০১৭।
আদালত বাদিনীর অভিযোগ আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু জনতা ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী এবং একই ইউনিয়নের পূর্ব দিঘলী গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে।

জানা যায়, দিঘলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমানের সাথে একই ইউনিয়নের পূর্ব দিঘলী গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা নিলুর মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী হয় ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে। ভালোবাসার সূত্র ধরে দু’জনে অতি কাছাকাছি আসলেও জীবনটাকে ঘুঁচিয়ে নিয়ে নিলুকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয় প্রেমিক শেখ মজিব।
পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সম্মেলন এবং ইউপি নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বিয়ে করতে কালক্ষেপণের আশ্রয় নেয় মজিব। এ দিকে বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে নিলুর পরিবারের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাওলাত নেন তিনি। মূলত নিলুর টাকা দিয়েই নির্বাচনী বৈতরণী পার হন শেখ মজিব। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভের পর মজিব বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে নিলুর সাথে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।
প্রেমিকা ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু ও তার পরিবার জানায়, গত ২৪ জানুয়ারী ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন নিলু। পরদিন (২৫ জানুয়ারী) বুধবার মা ও ভাইদের সাথে পরিচয় করে দেওয়ার কথা বলে নিলুকে তার বাড়িতে ডেকে নেন চেয়ারম্যান মজিব। ওইদিন সকালে নিলু শেখ মজিবের বাড়িতে গেলে তার ভাই ফারুক নিলুকে দেখেই গালমন্দ শুরু করেন। এ সময় শেখ মজিব বলেন, আমি তাকে খবর দিই নাই। নিলু প্রতিবাদ করলে শেখ মজিব তার বাড়ি ত্যাগ করার জন্য প্রেমিকা নিলুকে নির্দেশ দেন। এতে নিলু বিয়ের দাবিতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে অনশন শুরু করলে শেখ মজিব ও তার ভাই ফারুকসহ অন্যান্য সহযোগিরা মিলে নিলুকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালান।
পরে নিলুর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে নিলুকে নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রোববার দুপুরে নিজে বাদি হয়ে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেমিক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন প্রেমিকা ও জনতা ডিগ্রী কলেজের অফিসে সহকারী ফাতেমাতুজ জোহরা নিলু।