সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে বাজুসের নির্বাচনে চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারী পলাশ লক্ষ্মীপুরে বাজুসের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে চলছে ভোট গ্রহণ চন্দ্রগঞ্জে ১২ মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত গ্রেপ্তার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন

দাম বেড়েছে ইলিশ-ডিমের

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :


পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দাম বাড়লো ইলিশের। এছাড়া এ সপ্তাহে প্রতি পিচ ডিমের দাম ১-২ টাকা করে বেড়েছে। এদিকে, নাগালের বাইরে থাকা চালসহ অন্যান্য পণ্যের দাম নতুন করে না বাড়লেও কমার লক্ষণ নেই। পেঁয়াজের দাম কমলেও রমজানকে ঘিরে বাড়তে পারে বলে খুচরা বাজারে গুঞ্জণ।

বাণিজ্যমন্ত্রীর হাক ডাক কোন কাজে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিবছরের মতোই এবছর রমজানেও অস্থিতিশীল থাকছে বাজার। তবে এ থেকে পরিত্রাণ চান ক্রেতারা। তারা বলছেন, প্রতিবছরের মতো আর আশ্বাস চাই না, রমজানে দামের উর্ধ্বগতি থেকে মুক্তি চাই।

শুক্রবার (০৬এপ্রিল) রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী, কারওয়ানবাজারের আশপাশের এলাকার ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রমজান শুরুর আগেই মাংস ও চিনির বাজারে ঊর্ধ্বগতির হাওয়া লেগেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে ইলিম ও ডিমের দাম বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলা চালের বাজার তো গত বছর থেকেই অস্থিতিশীল। এতেই ক্রেতারা ভাবছেন প্রতিবছরের ন্যায় এবছর রামজানেও নাগালের বাইরে থাকছে বাজার দর।

শেষ সপ্তাহ প্রতি পিচ ডিমের দাম ১-২ টাকা করে বেড়েছে। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে ৭ টাকা পিচ বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৮-৯ টাকায়। ডিমের এমন দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে সবজি, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে সব ধরণের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, পেপে, করলা, পটল, ঢেড়সসহ সব ধরণের শাক এখন বাজারে ভরপুর। ফলে দামও তুলনামূলক কম। ডিমের দাম কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে বিক্রিতারা কিছু বলতে পারছেন না। তারা বলছেন, পাইকারদের কাছ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০, প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭৮০-৮০০, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০, সোনালি মুরগি প্রতি পিস সাইজ অনুযায়ী ১৬০-২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫৬ টাকা কেজি দামের চিনি এখন ৪ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, চালের বাজারের আগুন কমার কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই চালের বাজার দরে এমন ঊর্ধ্বগতি চলছে। সর্বশেষ খুচরা মূল্য অনুযায়ী কেজি প্রতি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩, ১ নম্বর মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫, সাধারণ মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২, বি আর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ ও স্বর্ণা এবং পারিজা ৪৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে এসব পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে জানা গেছে। তবে রমজান চলাকালীন চালের দামের নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু অন্যসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।

সবজির বাজার আগের দামেই স্থিতিশীল। বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি টমেটো ২৫, পেঁপে ২০, বেগুন ৩০, সিম ৪০, কাঁচামরিচ ৬০, ধনিয়াপাতা ১০০, লাউ প্রতিপিস ২০, গাজর ২৫, আলু ২০, ঢেরস ৪০, বরবটি ৫০, করলা ৪০, প্রতি জোড়া বাঁধাকপি ও ফুলকপি ২৫, লাল শাক, পালং শাক ও ডাটা শাক ৩ আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ, আদা ও রসুনসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দাম এখন পর্যন্ত কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। সর্বশেষ বাজার দর অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৪০ ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজি প্রতি আমদানি করা রসুন ১০০, দেশি রসুন ৬০, দেশি মসুর ডাল ১০০ ও আমদানি করা মসুর ডাল ৭০, ছোলা ৯০ ও আদা ৮০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মাছের দামও রয়েছে গত সপ্তাহের মতোই। প্রতি কেজি কাতল মাছ ২২০, পাঙ্গাশ ১২০, রুই ২৩০-২৮০, সিলভারকার্প ১৩০, তেলাপিয়া ১৩০, শিং ৪০০ ও চিংড়ি ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় খুচরা বাজারে ইলিশের উপস্থিতি কম। তবে পহেলা বৈশাখ ও ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় পাইকারি বাজারে এর দাম আকাশচুম্বী। বর্তমান বাজারে এক কেজি ২০০ গ্রাম বা তার বেশি ওজনের প্রতি মণ ইলিশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকার উপরে। ৬০০ গ্রাম-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ হাজার টাকায়। এছাড়াও ছোট আকারের ভেলকা ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায়।

নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি মণ এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৭০ হাজার, ৬০০ গ্রাম-৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ হাজার টাকায়। এর চেয়ে একটু ছোট আকারের ভেলকা ইলিশের প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকায়। ঝাটকার প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকা দামে। মাছের আমদানি এমন কম থাকলে আগামী সপ্তাহে এর দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মৎস্য পাইকারি বিক্রেতারা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930