শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

ব্রাজিলের বিদায়ে আকর্ষণ কমেছে বিশ্বকাপের

স্পোর্টস রিপোর্টার :


বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল বা ফাইনালে আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল-উরুগুয়ের মতো দলগুলোর বিদায়ের পর অবশেষে ব্রাজিল না থাকায় আকর্ষণ কমেছে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের। একে একে ফেবারিট দলগুলো হারিয়ে যাওয়ায় এখন আর এটাকে বিশ্বকাপ বলা যায় না। ফলে ২০১৮ বিশ্বকাপে এখন আর থাকল না বিশ্বকাপের সেই আনন্দ আর টানটান উত্তেজনা। এখন এ মহারণটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে গেল সেমিফাইনালের আগেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা!

একদিকে উরুগুয়ের ফের্নান্দো মুসলেরা। অন্যদিকে ফ্রান্সের হুগো লরিস। এই দুই বিশ্বখ্যাত গোলকিপারের খেলা দেখতে এবার অনেকেই বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে গ্যালারিতে বসেছিল। উরুগুয়ের গোলকিপারের দারুণ রিফ্লেক্স (প্রতিবর্তক্রিয়া) দুর্দান্ত। ফিটনেসও দারুণ। আট বছর আগে ঘানার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের নক-আউট ম্যাচে টাইব্রেকারে দুটো পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফরাসি গোলরক্ষক আবার অনুমান ক্ষমতায় অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে দক্ষ। সাহসী। মাথাটাও ঠান্ডা।

শেষ পর্যন্ত মুসলেরার দুই অর্ধে দুটো শিক্ষানবিসের মতো ভুলই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিল দুবারের বিশ্বজয়ীদের। আর মুসলেরার ব্যর্থ হওয়ার মঞ্চে দুরন্ত খেললেন লরিস। আটকে দিলেন উরুগুয়ের গোল করার রাস্তা। ম্যাচের শেষ দিকে, ডান দিকে ঝাঁপিয়ে যেভাবে তৎপরতার সঙ্গে উরুগুয়ের মার্টিন ক্যাসারেসের শট গোলে ঢুকতে দিলেন তা প্রশংসার।

যা বলে দেয়, ফরাসি গোলকিপার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলে চোখ রাখেন। আর মনোসংযোগে কোনো কমতি নেই তার। ম্যাচে ঠিক এই জায়গাতেই ধাক্কা খেলেন মুসলেরা। এটাই ফুটবলের মজা। এখানে কেউ একদিন নায়ক। তো কেউ একদিন চরম ব্যর্থ। আর গোলকিপাররা ব্যর্থ হওয়া মানেই তো দলের বিপদ দরজায় কড়া নাড়ে। অস্কার তাবারেসের দলের কাছেও ঠিক তাই হয়েছে। মুসলেরা এই বিশ্বকাপেই শুক্রবারের ম্যাচের আগে খেয়েছিলেন মাত্র একটি গোল।

কিন্তু এ দিন তার ভুলটাই বিশ্বকাপ থেকে ছুটি করে দিল উরুগুয়ের। আট বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপে মুসলেরার অভিষেক হয়েছিল এই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল না খেয়ে। আর শুক্রবার সেই ফরাসিদের হাতেই ভূলুণ্ঠিত হলো এই বিশ্বখ্যাত গোলকিপারের সম্মান। কেন এই ব্যর্থতা? মনে রাখবেন, আট বছরে একজন গোলকিপার কিন্তু তার ফিটনেস অনেকটা হারায়। যে গোল দুটো এদিন মুসলেরা খেয়েছে, সেখানে ফিটনেস এবং মনোসংযোগের অভাব স্পষ্ট। প্রথম গোলের সময় রাফায়েল ভারান যখন হেড করতে উঠছেন, তখন মুসলেরা বলের থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন। গোলটার রিপ্লে দেখলেই তা বোঝা যাবে। আর বলের থেকে চোখ সরে গিয়েছিল বলেই ঝাঁপাতে দেরি হয়েছিল ওর। বল বেরিয়ে যাওয়ার পর ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় গোলটার সময় আরও বড় ভুল করেন লুইস সুয়ারেজের দেশের এই গোলকিপার।

আতোয়া গ্রিজম্যান যে দূরপাল্লার শটটা নিয়েছিলেন, তা থামাতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েছিলেন মুসলেরা। বলটা ধরবেন, না চাপড় মেরে বের করবেন। গোলকিপারদের এই সিদ্ধান্তটা দ্রুত সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নিতে হয়। মুসলেরার সেখানেই দেরি হয়ে গিয়েছিল। তারপরও বলটা তিনি আটকাতে পারতেন। উচিত ছিল বলটাকে সামনে চাপড় মেরে ফেলা। তারপর ধরা। কারণ, সামনেই ছিল দিয়েগো গোদিনদের রক্ষণ। সেকেন্ড বল (যে বল গোলকিপার ধরতে না পারলে বেরিয়ে আসে)-টা ধরতে পারতো না ফরাসি ফুটবলাররা। এতে দ্বিধা কাজ করেছে। তার ওপর শরীরটাকেও বলের পিছনে নিয়ে যাননি। যদি বলের পিছনে শরীর থাকতো, তাহলে এই সোজা বলটা মুসলেরার হাতে না লাগলেও গায়ে লাগতে পারতো।

তৃতীয়ত, মুসলেরার হাতও ঠিক জায়গায় ছিল না। একটা হাত সামনে এবং একটা হাত কিছুটা পিছনে ছিল। তাই চাপড় মেরে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে গোলে ঢুকিয়ে দিলেন। আমার মতে, কাভানি না খেলার প্রভাব পড়ে থাকতে পারে দলে। এই বিশ্বকাপে কাভানি উরুগুয়ের এক নম্বর স্ট্রাইকার। একে সে নেই। তার উপর প্রথমার্ধে নিজে ভুল করায় দল পিছিয়ে গিয়েছে। তাই দ্বিতীয় গোলটা খাওয়ার সময়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল হয়তো। সেখান থেকেই বিপত্তি। এদিকে, বেলজিয়ামের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে শেষ লাতিন দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে সেলেকাওরা। পুরো ম্যাচে দাপটের সঙ্গে খেললেও জয় বঞ্চিত হয়েছে তারা। নেইমার, কোতিনহো, ডগলাস কস্তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেও হার এড়াতে পারেননি। ম্যাচ শেষে নেইমারের প্রশংসা করেছেন ব্রাজিলের কোচ তিতে। তার মতে নেইমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো পারফরম্যান্স করেছেন।

ইনজুরি থেকে সেরে উঠেই নেইমার যে এতোটা ভালো পারফরম্যান্স করবেন সেটা ধারণা করতে পারেননি তিতে। তিতে বলেন, নেইমার খুব উন্নতি করেছে। অল্প সময়ে সেরা ফর্মে ফিরেছে। মেক্সিকোর বিপক্ষের ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তখন আমি তাকে বললাম নেইমার তুমি তোমার শতভাগ দিতে পারছো। যখন পারফরম্যান্স করার ক্ষেত্রে শরীর ও মন সাবলিল থাকবে তখন তুমি বুঝতে পারবে যে তুমি শতভাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০