মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২৬ ইং ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

দরকষাকষির জন্যই জোটের আওয়াজ

আকাশবার্তা ডেস্ক : 


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে পুরো প্রস্তুতি। দিন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক আওয়াজ তত বাড়ছে। রাজনীতির মাঠে সরগরম হচ্ছে ছোট-বড় সকল দল। নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত সকলেই নিচ্ছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সাথে সাথে বাড়ছে জোটও। দেশের সবচেয়ে বড় তিনটি জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন ইউএনএ (৫৮ দলীয়) জোট। এমিছিলে গত শনিবার যুক্ত হয়েছে আরেকটি জোট। যার নাম দেয়া হয়েছে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।

গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর হেটেল ইম্পেরিয়েলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ইসলামি ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫টি সমমনা দল নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে। গঠিত জোটের কোনো দলই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত না। এদের প্রায় সবকটি দলই নামসর্বস্ব। এর মধ্যে এমন কিছু দল রয়েছে যাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বা অফিস কিছুই নেই। জোট গঠনকে কেন্দ্র করেই কয়েকজন মিলে রাতারাতি একটি দল গঠন করে জায়গা নিয়েছে জোটে। এসব দল নির্বাচন বা ভোটের মাঠে যুদ্ধ করার মতো ক্ষমতাও নেই। তাই বড় জোটের সাথে ব্যক্তি আওয়াজ দেয়াই আসল উদ্দেশ্য। দলগুলো নির্বাচন সামনে রেখে বড় জোটগুলোর সাথে দরকষাকষির জন্যই এগিয়ে যাচ্ছে। বড় দলগুলোর কাছে আওয়াজ বাড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য।

অন্যদিকে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন ডাক দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যের। এ প্রক্রিয়ায় তিনি স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তিকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গত ১০ বছরে ১৪ বার এরকম জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। কোনোবারই দেশের মানুষ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। ড.কামাল হোসেনের জোটে রয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল,নাগরিক ঐক্য,বিকল্প ধারা। তারা বিএনপির সাথে ঐক্য করার প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন যাবতই।

তবে ড.কামাল হোসেন বিএনপিকে শর্ত দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী থাকলে তারা ঐক্য করবে না। শেষ পর্যন্ত এ শর্ত ঠিক থাকেকিনা তা এখন দেখার বিষয়। বিভিন্ন দলের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন সামনে রেখে বড় জোটের কাছে ছোট দলের কদর বাড়ছে। আর রীতিমতো টানাটানি চলছে। কোনো দলকে পদ-পদবি ছাড়াও দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় অফার। চলছে গোপন বৈঠকও। দলগুলোও নানা সুযোগ-সুবিধার হিসাব কষেই জোটে ভেড়ার অপেক্ষায়। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনটি জোট অনেক আগে থেকেই মাঠে নেমেছে। এর সাথে নতুন যুক্ত হয়েছে আরেকটি জোট।

গুঞ্জন চলছে আরও কিছু দল বা জোটের। যারা তাদের প্রস্তুতি শেষে জানান দেবে মাঠে। চলছে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ। এর বাইরে বাম ও প্রগতিশীল ঘরানার কয়েকটি দল ও ইসলামি সমমনা দলগুলো পৃথক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। সব জোটই টার্গেট করছে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে। যারা নিবন্ধনকৃত দলের সাথে কথা বলে সুবিধা করতে পারছে না তারা আবার নিজেরাই দল গঠন করে আওয়াজ দেয়ার চেষ্টা করছে। আর যাদের নিবন্ধন রয়েছে তাদের কদর বাড়ছে বড় দলগুলোর কাছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, মতামত প্রকাশ করা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সুতরাং দল প্রকাশ করে নিজেদের মতামত প্রকাশ করবে এটা দেশের জন্য ইতিবাচক। এটা যতো বেশি হবে ততো ভালো। কারণ নির্বাচনমুখী দলগুলো তৎপর থাকলে দেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর কোনো নির্বাচন হবে না।

তবে বিশিষ্টজনরা মনে করছেন আগামী নির্বাচনে যেনতেন করে এমপি হওয়ার সুযোগ থাকবে না। দল বা ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে মানুষ ভোট দেবে না। আগামী নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জমূলক নির্বাচন। সুতরাং এই নির্বাচনে নামসর্বস্ব দলগুলো নির্বাচনের মাঠকে ঘোলাটে করবে। তারা মনে করেন এসব দলের নেতাদের নির্বাচন করে জিতে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। জোট ভারী করার মহড়া এটি। এতে জোটের চেয়ে সুবিধাবাদী দলগুলোই বেশি লাভবান হবে। নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, ৪২টি দল নিবন্ধিত।

এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও এনডিপির নিবন্ধন স্থগিত আছে। বাকি ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ জোটে ৮টি, বিএনপি জোটে ৮টি এবং জাতীয় পার্টির জোটে ২টিসহ ১৮টি দল জোটভুক্ত আছে। বাকি ২২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্লাটফর্ম থেকে জোটভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। জোট ভারী করতে এসব নিবন্ধিত দলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে হাঁকডাক করছে জোটগুলো। এই সুযোগ কাজে লাগাতে অনেকটা নিলামেই উঠেছে ছোট-ছোট দল। নিবন্ধিত ছোট দলগুলোর বড় বাধা রাজনৈতিক আদর্শ।

ইসলামি জাতীয়তাবাদ, জাতীয়তাবাদ, ইসলামি, ধর্মনিরপেক্ষ, কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল নানা চেতনার জন্য দলগুলো জোট বাছাইয়ে জটিলতায় পড়েছে। তবে অফারের সঙ্গে কমন আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রাধান্য দিয়ে ইসলামি, বাম ঘরানার দলগুলো যেকোনো জোটে ভিড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, বড় দলের দরকার ক্ষমতা। ছোটদের ক্ষমতার স্বাদ। একক নির্বাচনের ক্ষমতা নেই। বড়রা ডাকলে তাই না করতে পারছে না ছোটরা।

তাছাড়া জোট দলগুলোর ধারণা, যতো বড় জোট ততো বেশি ভোট; কিন্তু মানুষ এখন পাল্টে গেছে। তারা দেখে-শুনে-বুঝে ভোট দেয়। জোট বাড়ানোর চেয়ে ভোট বাড়ানোর কাজে মন দিলে দলগুলো ভালো করবে। জানা যায়, ১৪ দলীয় জোট ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের নিয়ে দশম জাতীয় নির্বাচন করেছে। জাতীয়তাবাদ আদর্শে বিশ্বাসী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, বিজেপি, কল্যাণ পার্টিসহ বেশকটি রাজনৈতিক দল আছে। এছাড়াও ড. কামালসহ বিভিন্ন বড় ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বৃহৎ প্লাটফর্ম সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটা মানুষের মধ্যে একটি আইওয়াশ মাত্র। জোট যতো বড়ই হোক, নির্বাচনে ভোটাররা দুভাগে বিভক্ত। একটি সরকারকে বহাল রাখার চেষ্টা করে আরেকটি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসতে চায়। এই হাওয়ায় মানুষ জোট বেছে নেয়। এখানে কোন জোটে কত দল তা বিবেচ্য বিষয় না। দেশে কত জোট আছে তাও বিবেচনা করে না সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে অনিবন্ধিত দলগুলোর রয়েছে অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তারা মনে করেন কমিশনের জটিলতার কারণে তারা নিবন্ধন পাচ্ছে না। তারা মনে করে আইন ঠিক করে সহজ শর্তে তাদের নিবন্ধন করতে সুযোগ দেয়া উচিত।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ইসলামি ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, কমিশনের জটিল নিয়মের কারণে আমরা নিবন্ধন করতে পারছি না। আমরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে রাখছি। আশা করি সংবিধানের দিকে লক্ষ্য করে আমাদের নিবন্ধন করতে সুযোগ দেয়া হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আসাদুজ্জামান বলেন, ২০০৮ সালে আইন করার পূর্বে সমস্ত দলের সাথে পরামর্শ করেছি। সকলের মতামতের ভিত্তিতেই এই আইন করা হয়েছে। আইন করার পরও কেউ এটা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেনি। সুতরাং এটা নিয়ে এখন অভিযোগ করার কিছু নেই। এ কর্মকর্তা জানান, এই মুহূর্তে নিবন্ধনের আর সুযোগ নেই।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০