আদালত প্রতিবেদক :
গ্রিনলাইন বাসের ধাক্কায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা আদেশের পর প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধে গ্রিনলাইনকে এক মাস সময় দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
ক্ষতিপূরণের অগ্রগতির বিষয়ে শুনানি নিয়ে বুধবার (১০ এপ্রিল) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিবহনটির মালিক হাজী মো. আলাউদ্দিনকে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা। অন্যদিকে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ।
বুধবার সকালে আদেশে আদালত বলেছেন, তিনটার মধ্যে রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকার কিছু অংশ না দিলে আমাদের (আদালত) মতো আমরা ব্যবস্থা নেব। আদালত থেকে বের হবার পর রাসেল সরকার এ তথ্য জানান।
বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। গ্রীনলাইনের মালিক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও তার আইনজীবীকে উদ্দেশে করে এ কথা বলে আদালত।
শুনানির শুরুতে রিটকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, আমাদের সাথে এখনও গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেনি। এসময় গ্রীনলাইনের আইনজীবী মোহাম্মদ অজিউল্লাহ ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের জন্য আবারও সময় চান।
তখন আদালত গ্রীনলাইনের মালিক ও আইনজীবীকে বলেন, প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকার যখন হাসপাতালে ভর্তি হলেন, তখন আপনারা কোনও খোঁজ নিলেন না। একটা টাকাও দিলেন না। রাসেলের একটা পা কেটে ফেলা হয়েছে। আরেকটি পা-ও যাওয়ার পথে। আপনাদের ব্যবসা তো ঠিকই চলছে। মানবাধিকার বলেও তো একটা ব্যাপার আছে।
এসময় গ্রীনলাইনের আইনজীবী অজিউল্লাহ আদালতকে বলেন, রাসেল সরকারের চাকরির ব্যবস্থা করবে গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ। তখন আদালত বলেন, ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে আদেশ দিয়েছি সেটার কিছু অংশ বেলা ৩টার মধ্যে পরিশোধ করে আসেন, তাহলে বুঝব আপনারা আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। অন্যথায় আমাদের মতো করে আমরা ব্যবস্থা নেব। এরপর আদালত বিষয়টি শুনানির সময় বেলা ৩টা নির্ধারণ করেন।
গত ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রীনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। গ্রীনলাইনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ অজিউল্লাহ। এর আগে গত ৩১ মার্চ এ ঘটনায় রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রীনলাইন পরিবহনের করা আবেদন খারিজ করে গত রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ১২ মার্চ রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করে গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ।
আইনজীবী শামসুল হক রেজা জানান, রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেয়। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলে গত বছরের ১৪ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছিলেন।
এরপর হাইকোর্ট রুলের শুনানি নিয়ে ভিন্ন একটি বেঞ্চ রাসেলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রাসেলের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ গ্রীনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বহন করতে এবং তার কৃত্রিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
গত বছর ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার জেলার পলাশ বাড়িতে। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা। এ ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন। পরে আদালত রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন।