সর্বশেষ:
সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ হাইস্কুল প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন, মহাসড়কে যানজট

‘শেষ জীবনে আমি গ্রামে থাকবো’

বিশেষ প্রতিবেদন :

শোকাবহ আগস্টের অষ্টম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের শেষ দিনগুলো তার বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কাটাতে চেয়েছিলেন। মহান এই নেতা সারাজীবন দেশের সাধারণ জনসাধারণের কল্যাণ চিন্তা করেছেন, আর তাদের মাঝে নিজেকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন।

তাই, জীবনের শেষ দিনগুলোতে গ্রামের নিঝুম প্রকৃতির কাছেই থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। বড় সন্তান হিসেবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কাছাকাছি বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চিন্তা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও ইচ্ছের কথাও তাই মেয়ের সঙ্গেই আলাপ করতেন।

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘বাবার কাছাকাছি বেশি সময় কাটাতাম। তার জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে অনেক আলোচনা করার সুযোগও পেতাম।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রচিত শেখ মুজিব আমার পিতা গ্রন্থের ‘স্মৃতির দখিনা দুয়ার’ আত্মকথনে তিনি জাতির জনকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার একটি কথা আজ খুব বেশি করে মনে পড়ে। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘শেষ জীবনে আমি গ্রামে থাকব’। তুই আমাকে দেখবি। আমি তোর কাছেই থাকব।’

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি। থাকা হয়নি তার বড় মেয়ে শেখ হাসিনার সাথে। অবশ্য তিনি গ্রামেই আছেন- তবে একা একা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম আঘাতে তিনি স্বপরিবারে নিহত হন।

এর মাত্র ১৬ দিন আগে ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা ছোট বোন শেখ রেহানা এবং দুই শিশু সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে জার্মানিতে কর্মরত পরমাণু বিজ্ঞানী স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কাছে চলে যান। শেখ হাসিনা সেদিন যেতে চাননি।

তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিলো সমাবর্তনের প্রস্তুতি। ১৫ আগস্ট এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাজ সাজ রব। জার্মানি যাওয়ার আগে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেসময়ের উপাচার্য পদার্থবিদ ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর সাথে দেখা করতে যান।

আবদুল মতিন চৌধুরী সেদিন শেখ হাসিনাকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত থেকে যেতে বলেন। ঐতিহাসিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের অংশীদার হতে। শেখ হাসিনাও থেকে যাওয়ারই মনস্থ করেন। কিন্তু ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার টেলিফোন পেয়ে ৩০ জুলাই তারিখেই শেখ হাসিনা চলে যান।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সেদিন যদি স্যারের কথা অমান্য না করে ঢাকায় থেকে যেতাম, আমার জন্য সেটাই ভালো হত। মা, বাবা, ভাইদের সাথে যদি আমিও চলে যেতে পারতাম, তবে প্রতিদিনের এই অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে তো বেঁচে যেতাম।’

১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই দুই মেয়ের বিদায়কালে বঙ্গবন্ধুও খুব ভেঙে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি দিনের প্রতিটি কাজের সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘দুই মেয়েকে বিদায় দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেদিন শিশুর মতো কেঁদেছিলেন। এমনভাবে তাকে আর কখনো কাঁদতে দেখিনি।’

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031