রবিবার ৩১শে মে, ২০২৬ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা

আকাশবার্তা ডেস্ক :

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে শিক্ষকের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। ইসলাম শিক্ষককে উচ্চমর্যাদায় ভূষিত করেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) রসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন কর! এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব শিষ্টাচার শিখ। তাকে সম্মান কর যার থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর। (আল-মুজামুল আউসাত : ৬১৮৪)।

অপরদিকে আছারে সাহাবার মধ্যে পাওয়া যায়। হজরত শাবী থেকে বর্ণিত, একবার হজরত জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) তার সওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) রেকাবটি শক্ত করে ধরেন। তখন জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, হে রসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই আপনি হাত সরান। উত্তরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, না, আলেম ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়। (আল ফকি্বহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/১৯৭)।

এভাবেই যুগে যুগে ইসলাম ও ইসলামী মনীষীগণ শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। ছোটবেলায় মাদ্রাসায় তালিমুল মুতাআল্লিম নামক গ্রন্থে একটি ঘটনা পড়েছিলাম। সেটি হলো, খলিফা হারুনুর রশীদ একবার তার সন্তানের শিক্ষার খোঁজখবর নিতে শিক্ষকের বাড়ি যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার সন্তান ওই শিক্ষকের পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে। শিক্ষক তখন নামাজের জন্য অজু করছিলেন। তার সন্তান এবং শিক্ষকের এ অবস্থা দেখে খলিফা পরদিন শিক্ষককে ডেকে পাঠাল।

শিক্ষক তো ভয়ে অস্থির। তার ধারণা হয়েছিল, রাজপুত্রকে দিয়ে পায়ে পানি ঢালানোর কাজ করিয়েছেন। এ অপরাধে নিশ্চয়ই তার কঠিন সাজা হতে পারে। যাই হোক পরদিন ভয়ে ভয়ে দরবারে উপস্থিত হলে খলিফা শিক্ষককে ভর্ৎসনা করে বলেন, তার সন্তানকে শিক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে সঠিক আদব শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার জন্য। কেন তার সন্তানকে এক হাতে পানি ঢেলে অন্য হাতে পা ধুয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করা হলো না। (ঘটনাটি বাদশাহ হারুনুর রশীদের। তালিমুল মুতাআল্লিম, পৃ. ২২)।

আসলে গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ নামক জিনিসগুলোকে আমরা টেনেহেঁচড়ে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিতে চাইছি। এ জন্যই হয়তো আজ আমাদের এই অবনতি। আমরা যতই কোরআন হাদিস থেকে দূরে সরে যাব ততই আমাদের নৈতিক অবক্ষয় হতে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। যার মধ্যে নূ্ন্যতম আল্লাহর ভয় থাকবে সে কোনো দিনও কোনো মানুষকে অপমান করবে না। শিক্ষক তো দূরের কথা।

কেননা হাদিস শরিফে এরশাদ হচ্ছে, হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন একজন বয়স্ক ব্যক্তি রসুল (সা.) দরবারে হাজির হলে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম নিজ স্থান থেকে সরে তাকে জায়গা করে দেন।

তখন রসুল (সা.) এরশাদ করেন, যারা ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করে না, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (সুনানে তিরমিজি : ১৯১৯)। শিক্ষকরা আমাদের সুশিক্ষা দিয়ে থাকেন। নিঃসন্দেহে তারা আমাদের গুরুজন। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত করবেন।

(সংগ্রহিত)

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১