মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২৬ ইং ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

১০৯৮ প্রার্থীর ডোপ টেস্ট হচ্ছে

আকাশবার্তা ডেস্ক :

মাদকসেবীরা আর সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে সুযোগ পাচ্ছেন না। চাকরিতে যোগদানের আগেই মাদক সেবনকারী কিনা তা নিশ্চিত হতে ডোপ টেস্ট করা শুরু হয়েছে। গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফ মাস স্টেপটো ফটোমিটার (জিসিএমএস) নামক মেশিনে এই ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা অধিদপ্তরের (এনএসআই) গেজেটেড ও নন-গেজেটেড শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগের জন্য ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। শুধু সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ব্যাংকসহ কোম্পানিতে নিয়োগের জন্যও ডোপ টেস্ট শুরু করা হয়েছে।

আর এই ডোপ টেস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ল্যাবে শুরু করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অধীনে স্থায়ী বিশ্বমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে মহা-প্রজেক্ট সরকার হাতে নিয়েছে বলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আমার সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অধীনে ডোপ টেস্টের জন্য বিশ্বমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠায় (জিসিএমএস) ১০টি মেশিন ক্রয় করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর প্রতিটি মেশিনের ক্রয়মূল্য আড়াই কোটি টাকা হবে। এতে ১০টি মেশিনের জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। এসব মেশিন অপারেট করতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিশেষজ্ঞদের এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিশেষজ্ঞ জানান, এই মেশিনে হাতের স্পর্শ এবং মানুষের অনুপস্থিতি ছাড়াই মাদক পরীক্ষার কাজ চলে। এক সঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ মাদকের নমুনা একসঙ্গে প্রবেশ করালে দু-এক মিনিট পরপর প্রতিটি মাদকের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসছে। এটা সম্ভব হচ্ছে গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফ মাস স্টেপটো ফটোমিটার (জিসিএমএস) মেশিনের সাহায্যে। আধুনিক এ মেশিনটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (ডিএনসি) যুক্ত হয়েছে।

গত ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর ডিএনসিতে মাদক শনাক্তের অত্যাধুনিক জিসিএমএস যন্ত্রটি যুক্ত হয়। এটি বিশ্বের সর্বাধুনিক মাদক শনাক্ত মেশিন। অপরিচিত মাদকদ্রব্য শনাক্তে সক্ষম এ মেশিনটি হাতের স্পর্শ এবং মানুষের অনুপস্থিতি ছাড়াই কাজ করতে পারে। বিদ্যুৎ ছাড়াও অটো জেনারেটর সংযুক্ত করায় এ যন্ত্রটি ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিতে পারে। নতুন মাদক খাতও এই মেশিনে শনাক্ত করা হয়েছে। আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত জিসিএমএস মেশিন একনাগাড়ে একাধিক পরীক্ষা করতে সক্ষম। জিসিএমএস মেশিনের একটি ঢাকায় এবং আরেকটি চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় কাজ শুরু হলেও চট্টগ্রামে এখনো শুরু করা হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই মেশিনের মাধ্যমে চিহ্নিত মাদকের অরজিন প্রোফাইলিং করা হচ্ছে। এতে অনায়াসে মাদক শনাক্ত করা যাবে এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে। একই সঙ্গে এ মাসেই ডিএনসিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি রেমন স্পেকট্রস কপি, যা রেমন নামে পরিচিত। এ মেশিন আমেরিকা থেকে আমদানি করা হয়েছে। এই মেশিনটি ল্যাব এবং ফিল্ডে বহনযোগ্য। এটা বস্তুতে স্পর্শ করা মাত্রই মাদক শনাক্ত করতে পারবে। লেজারের সাহায্যে চালিত মেশিনটি ডিএনসিতে নতুনমাত্রা যোগ করবে। রেমন মেশিন একদিকে যেমন কাজে গতি আনবে, ঠিক তেমনি মাদক নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ের ল্যাবে এই ডোপ টেস্ট শুরু করা হয়েছে। পরিচালক (প্রশাসন) জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের গেজেটেড ও নন-গেজেটেড শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগের জন্য ৯০২ জনকে প্রার্থী হিসেবে তাদের ডোপ টেস্ট করার জন্য গত ৪ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে প্রার্থীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আর এই ডোপ টেস্ট ফি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে গত ১৫ অক্টোবরের পরিপত্র মোতাবেক কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

অপর সূত্র জানায়, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেডের বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগের জন্য গত ২৮ অক্টোবর নির্বাহী পরিচালক (এইচআর) ঢাকা, তার প্রতিষ্ঠানে ১২২ জনকে ডোপ টেস্ট করার জন্য বলা হয়েছে। এরপর গত ৩০ অক্টোবর এই প্রতিষ্ঠানের আরও ৭৪ জন চাকরিপ্রার্থীর ডোপ টেস্ট করার অনুরোধ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৮ এর বিধি মতে, ‘মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্ত করিবার প্রয়োজনে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যাইবে। ডোপ টেস্ট পজেটিভ হইলে ধারা ৩৬(৪) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’ এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকসেবন ব্যতীত অন্য কোনোরূপ মাদক অপরাধী হিসাবে প্রতীয়মান হন, তাহা হইলে উক্ত আদালত উক্ত ব্যক্তিকে মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিবেচনাপূর্বক যে কোন মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বীয় অথবা পরিবারের ব্যয়ে মাদকাসক্তি চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং যদি উক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ব্যক্তি এইরূপ মাদকাসক্তির চিকিৎসা গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, তা হইলে তিনি অন্যূন ছয় মাস অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’

চাকরিতে প্রবেশের আগে ডোপ টেস্টের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দেন। আর ওই আইন পাস হওয়ার পরই চাকরিপ্রার্থীরা মাদক সেবনকারী কিনা তার পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। শুধু সরকারিই নয়, বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও মাদক সেবনকারী কিনা পরীক্ষা করা শুরু হয়ে গেছে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে সে মাদকাসক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গতকাল তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করা হলে তিনি ‘ডোপ টেস্ট’ করার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এজন্য মহা-প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। এরপর তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) যুগ্ম সচিব এস এম জাকির হোসেন এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। এজন্য তিনি তার সঙ্গেই যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর জাকির হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তার সাক্ষাতের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা হলেও তিনি সাক্ষাতের সুযোগ দেননি। এরপর তার সেল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তিনি তার সেল ফোনটি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’ কার্যকর করা হয়। নতুন আইনে আলোচিত ইয়াবা ‘ক’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য। এর রাসায়নিক নাম অ্যামফিটামিন। নতুন আইন অনুযায়ী এ মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ১০০ গ্রামের বেশি ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড ও মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে। এ আইনে সিসাকে মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০