শনিবার ১৩ই জুন, ২০২৬ ইং ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন

খেলাপিরাই বারবার পাচ্ছে ঋণ

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

একমুখী হয়ে পড়েছে ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রম। বারবার ও বেশি বেশি ঋণ পাচ্ছেন বড়রা। এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আবার খেলাপি। ব্যাংকেরই সংঘবদ্ধ একটি চক্র অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা স্বার্থ হাসিলে এ ঋণ খেলাপিদের পাইয়ে দিচ্ছে। বড় খেলাপিরা এ দৌড়ে থাকছেন বরাবরই শীর্ষে। বাদ যাচ্ছে না ভালো বোঝাপড়ার নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও।

সাম্প্রতিককালে ব্যাংকগুলো দুঃসময় পার করলেও এসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে তারল্য সংকটে রয়েছে। সমস্যা শুধু নতুন উদ্যোক্তাদের বেলায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এদের ঋণ দিচ্ছে না বললেই চলে।

দেশে কুটির, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (সিএমএসএমই বা এসএমই) বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান এ ধরনের অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ চেয়েও পাচ্ছেন না। ছোট আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা শুরু করা কিংবা বিদ্যমান শিল্পটি একটু বড় করতে বা ব্যবসার প্রসারে ব্যাংকের এই সহযোগিতাটুকু তাদের প্রয়োজন হচ্ছে।

কিন্তু দেখা গেছে, ঋণের জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করছেন ঠিকই, তবে এতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সাড়া পাচ্ছেন না ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে। যদিও এ ধরনের উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন স্বল্প সুদেই ওই ঋণ পাওয়ার কথা।

এদিকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কেউ ঋণ যদিও বা পাচ্ছেন, সেখানেও থাকছে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ এর মতো থাবা। মিলছে না এক অংকের সুদে ঋণ। এ ঋণের বেশিরভাগই ছাড় করা হয় স্বল্পমেয়াদি শর্তে।

এতে সুদের হার যেমন বেশি, পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের গ্রেস পিরিয়ডও হয় খুব কম। ফলে কিস্তি পরিশোধে সুদাসলের সীমাটাও হচ্ছে বড়। এতে ব্যবসাটা দাঁড় করানোর আগেই উদ্যোক্তাকে ঋণের টাকা পরিশোধে বেশি মনোযোগী হওয়ায় মাঠপর্যায়ে অর্থনীতির অনেক সম্ভাবনা ঝরে পড়ছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। বড় ঋণগ্রহীতারাই বেশি খেলাপি। এদের আবার ৭২ শতাংশই হচ্ছেন কোটিপতি ঋণগ্রহীতা।

বড়দের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বেশি যাচাই-বাছাই হচ্ছে না বলেই তারা ওই ঋণ সহজে পেয়ে যাচ্ছেন এবং ছাড়ের পর তা আদায়ও করা যাচ্ছে না। এতে ব্যাংকের তারল্য কমছে। ফলে ঋণ চাইতে গিয়ে ছোটরা সহজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ছোটদের

ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের যত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তা যদি বড় ঋণে অনুসরণ করা হতো তাহলে ছোটরাও চাহিদা অনুসারে ঋণ পেত। তাই ঋণকে সার্বজনীন করতে তিনি যেকোনো মূল্যে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ উদ্ধার করার পরামর্শ দেন। এটা উদ্ধার করতে না পারলে ছোটরা এখন যেটুকুই পাচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাও পাবেন না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের কাতারে ওঠার প্রস্তুতি নিলেও আমাদের ব্যাংকারদের কর্মকাণ্ড ও মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর জন্য যে ধরনের শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম থাকা দরকার তা-ও সীমিত। ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রটি এখনো একমুখী হয়ে আছে।

এক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক ও ব্যাংকারদের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক কিংবা ভালো যোগাযোগ ও বোঝাপড়া আছে তারাই শুধু ঋণ পাচ্ছেন। উপেক্ষিত হচ্ছেন নতুন কিংবা কুটির, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (সিএমএসএমই বা এসএমই) বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ উদ্যোক্তা।

এর ফলে অর্থনীতির প্রাণশক্তিগুলো মাঠপর্যায়ে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বড় শঙ্কার বিষয়। তিনি বলেন, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর এই একমুখী প্রবণতা থেকে বের করে আনতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকই।

তবে এর জন্য শুধু নির্দেশনা দিয়ে হবে না, তা বাস্তবায়নে যতটা কঠোর হওয়া যায় তাই করতে হবে। প্রয়োজনে যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক খাতভিত্তিক নিয়মমাফিক ঋণ দেবে না, তাদের নতুন শাখা খোলা বন্ধ করে দিতে পারে। যেসব শাখা চালু আছে তাদের খাতভিত্তিক ঋণ দেয়ার কার্যক্রমও খতিয়ে দেখতে পারে। লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলে সেগুলোও বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া আরও কিছু ব্যাংকিং মেকানিজম রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োগ করে বড়-ছোটর মধ্যে ঋণ দেয়ার বৈষম্য কমিয়ে আনতে পারে। ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েক হাজার কোটি থেকে শত কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণখেলাপি হয়েছেন এমন ৩০০ জনের তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশিত হয়েছে। এদের কাছে ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়ে ফেঁসে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে উল্টো পুনঃতফসিলের সুযোগসহ নতুন করে খেলাপিদের ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। অথচ ছোটদের ঋণ দেয়ায় গড়িমসি করা হচ্ছে। অজুহাত তোলা হচ্ছে তারল্য সংকটের।

ব্যাংকগুলো একদিকে বড়দের ঋণ দিয়ে তহবিল শূন্য করছে, অন্যদিকে তারল্য ধরে রাখার কৌশল হিসেবে নতুনদের ঋণের আবেদনে বেশিরভাগই ‘রিজেক্ট’ সিল মারছে। এটা আইনের চোখে অস্বচ্ছ ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের সামিল।

যদিও নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের হার বড়দের তুলনায় বেশি। এটা শতকরা ৯০ শতাংশের বেশি। ক্ষেত্রবিশেষে তা ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত। কেন এমনটা হচ্ছে— জানতে যোগাযোগ করা হলে এ প্রসঙ্গে একাধিক ঊর্ধ্বতন ব্যাংকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মতো করে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, নতুন উদ্যোক্তাদের খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ শিল্প বা ব্যবসা পরিচালনায় এদের অভিজ্ঞতা অনেক কম। ফলে ঋণ নিয়ে তারা সত্যিকার অর্থেই ব্যবসাটা দাঁড় করাতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে ব্যাংকাররা সংশয়ে ভুগেন।

মূলত দায়িত্বে থেকে এমন ঝুঁকি তারা নিতে চান না বলেই নতুন বা ছোট ও মাঝারিদের ঋণ পাওয়ার হার কম। আবার এ ধরনের ঋণে ব্যাংকারদের কর্মপন্থা নির্ধারণেও রয়েছে কিছু জটিলতা। ছোট ঋণ তাদের পক্ষে পরিচালনা করা কঠিন। এমন সব অজুহাতেই ব্যাংকাররা নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়ার আগে বারবার ভাবেন। এতে কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী তেমনই একজন তরুণ উদ্যোক্তা হলেন কাজী সাজিদুর রহমান। সম্প্রতি বেসরকারি বাণিজ্যিক একটি ব্যাংকের কাছে তিনি ২০ কোটি টাকা চেয়েছেন। কিন্তু ওই টাকা তিনি পাননি।

তিনি বলেন, ঋণের জন্য গেলেই ব্যাংক থেকে বলা হয়, টাকা নেই। ব্যবসা বড় করতে হলে ব্যাংক ঋণ দরকার। কিন্তু পাচ্ছি না। শুধু আমি নই, আমার মতো অন্য উদ্যোক্তাও চাহিদামতো ঋণ পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, এসবেরই প্রভাব পড়েছে কুটির, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিভিন্ন খাতে (সিএমএসএমই বা এসএমই) ঋণ বিতরণে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে ক্ষুদ্র ঋণের প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে এই ক্ষুদ্র ঋণের হার ছিল ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার বিষয়ে এমন সব প্রসঙ্গ টেনে সম্প্রতি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনও তেঁতো মন্তব্য করেছেন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো বড় বড় তেলা মাথায় তেল দিচ্ছে, অর্থনীতির জন্য এ প্রবণতা ভালো নয়। এর থেকে আমাদের বের হতে হবে।

পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধন পাওয়ার ক্ষেত্রটিকে আরও সহজ করা দরকার। কারণ তারা যথেষ্ট মূলধন পাচ্ছেন না। এদের হাতে মূলধন না দেয়া হলে সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মাঠেই ভেস্তে যেতে পারে।

ঋণের সীমা কোন উপখাতে কত? সিএসএমইর কোন উপখাতে কত ঋণ বিতরণ করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার সীমা নির্ধারণ করা আছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ম্যানুফ্যাকচারিং তথা শিল্প খাতে ন্যূনতম ৪০, সেবায় ২৫ এবং ব্যবসায় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বিতরণের কথা বলা হয়।

একই নির্দেশনায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করবে, তার ন্যূনতম ২৩ শতাংশ ঋণ এসএমই খাতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে ২০২১ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে বলা হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকেরই এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি বছর ২৪টি ব্যাংক এসএমই খাতে ২৩ শতাংশেরও কম ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এতে গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা কমেছে।

ঋণের সীমা বাড়াতে নীতিমালায় পরিবর্তন : ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এসএমই নীতিমালায়ও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। এখানে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই শিল্পের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই চার ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এসএমই শিল্প বলা হয়েছে।

চলতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে এসএমই খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা, সেবা খাতে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীল খাতের জন্য ২০ কোটি টাকা এবং সেবা ও ব্যবসার জন্য পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া মাইক্রো উদ্যোক্তারা উৎপাদনশীল খাতের জন্য এক কোটি টাকা এবং সেবা খাতে ২৫ লাখ টাকা ও ব্যবসার জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

গতি নেই উদ্যোক্তা তৈরির তহবিল : নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উত্তরণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠন করেছিল উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল।

এর মাধ্যমে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে কুটির, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল— যে সব উদ্যোক্তার ছোট ব্যবসা আছে কিন্তু তহবিলের অভাবে ব্যবসা বড় করতে পারেননি কিংবা জামানতের অভাবে ব্যাংক থেকে ঋণও পাননি এমন উদ্যোক্তাকে ঋণ দেয়া।

এতে একজন গ্রাহক ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে উল্লেখ করে ৩৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিল। ব্যস, এ পর্যন্তই।

এ খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের কারণে গত পাঁচ বছরে এ তহবিলের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ বিতরণ হয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ রয়েছে অব্যবহূত অবস্থায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই তহবিলের অর্থও এখন ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

দায়িত্বশীলদের বক্তব্য : অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম স্বীকার করে বলেছেন, এটা ঠিক, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণে তাদের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারছে না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা অনেকদিন ধরেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অর্থায়ন নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংক এক গ্রাহককেই বেশি বেশি টাকা দিচ্ছে, বারবার দিচ্ছে।

অথচ ছোটদের ঋণ পেতে কত কত সমস্যা হচ্ছে। এটা যদি একমুখী গ্রাহকের পরিবর্তে অনেক গ্রাহককে দেয়া যায়, তাহলেই এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে। এদিকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এমএসএমই হলেও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব।

এমনটিই মনে করছেন, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েনডি ওয়ার্নার। তিনি বলেন, এ খাতে উদ্যোক্তাদের বিকাশ ও তাদের প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সরবরাহ বাড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো খুব জরুরি।

আইডিএলসি ফিন্যান্সের এমডি এবং সিইও আরিফ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, ১৫ বছর ধরে এসএমই ঋণ দিচ্ছে তাদের প্রতিষ্ঠান। এদের ঋণ আদায়ের হার ৯৯ শতাংশেরও বেশি।

কিন্তু এ খাতে উদ্যোক্তাদের ঋণদানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে একটি সার্বজনীন সংজ্ঞা। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংজ্ঞা একরকম। শিল্প নীতিতে সংজ্ঞা আরেকরকম। এর মারপ্যাঁচ থেকে বের হতে হবে।

এ খাতে দ্বিতীয় সমস্যা ক্রেডিট রেকর্ড সিস্টেমের দুর্বলতা। তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে, এসএমই খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ভালো বন্দোবস্ত না থাকা। আদালতের কাছে গেলে বেশি হারে ফি দিতে হয় এবং দীর্ঘ সময় লাগে। মূলত এসব কারণেই দেশে এসএমই অর্থায়ন ঠিকমতো হচ্ছে না।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, কঠিন শর্তের কারণেই ব্যাংকগুলো এ ধরনের ঋণ বাড়াতে পারছে না। অনেক শর্ত পূরণ করে তারপরই ঋণ দিতে হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০