,

সংকটের গুজবে পণ্য কেনার হিড়িক

আকাশবার্তা ডেস্ক :

নভেল করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কৃত্রিম সংকটের সম্ভাবনায় একসঙ্গে পণ্য কিনে রাখছে মানুষ। ফলে বেড়েছে নিত্যপণ্যের বিক্রি। এ সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়ে দিচ্ছেন নিত্যপণ্যের দাম, করছেন মজুদ।

বাংলাদেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্যের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য ক্রয় করে অযথা বাজার অস্থির না করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকটকারীদের ধরতে এরই মধ্যে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে একসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছে মানুষ। যার বাসায় মাসে ২০ কেজি চাল লাগে, দেখা যাচ্ছে তিনি এখন কিনছেন ৫০ কেজির এক বস্তা। বাজারগুলোয় মানুষের ব্যাপক ভিড়। মূলত, ৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই পরিস্থিতি।

ওইদিন দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। তবে বাজারে ভিড়টা বেশি দেখা গেছে মঙ্গলবার থেকে গতকাল বুধবারও।

রাজধানীর নর্দ্দা বাজারের মুদি দোকানি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরে মানুষের ব্যাপক ভিড়। যার লাগবে এক বস্তা, সে কিনছে তিন বস্তা। পরিচিত ক্রেতারা ফোন করলে তাদের কয়েকদিন পরে কেনার পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনিও জানান, চালের দাম দুই থেকে চার টাকা বেড়েছে। মসুর ডাল তিন-চার টাকা বাড়তি। পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেশ কমেছে। এখন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা ও চায়না রসুন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।

নর্দ্দা বাজারে গতকাল দেশি নতুন রসুন বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা ও ফার্মের ডিম ১০০ টাকা ডজন দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডিম বিক্রেতা বলেন, তিন দিন আগে ডিমের ডজন ৯০ টাকা ছিলো।

ব্যবসায়ীরা বললেন, দাম বেশি বেড়েছে চালের। মানভেদে প্রতি কেজিতে দুই থেকে চার টাকা। খোলা সয়াবিন, পামতেল, ডাল, ডিম ও আলুর দাম কিছুটা বাড়তি। বিদেশি শিশুখাদ্য ও ডায়াপারের দামও বাড়তি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

জীবাণুনাশকের দাম তো আগে থেকেই বেড়ে গেছে। বাজারে মানুষের চাপ যেহেতু বেশি, সেহেতু দর-কষাকষির সুযোগ কম। ফলে আগে যেটুকু ছাড় পাওয়া যেত, সেটাও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

চালের দাম বাড়লো কেন জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মহিউদ্দিন রাজা বলেন, হঠাৎ বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ায় গত কয়েকদিনে প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।

তিনি বলেন, মিলমালিকদের অনেকেই নতুন সরবরাহ আদেশ মানছেন না। এতে বাজারে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

করোনার কারণে খাদ্য সংকট হবে না জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং অনেক খাদ্য কিনে মজুদ করারও প্রয়োজন নেই।’

কোনো ব্যবসায়ী, মিলার করোনাকে পুঁজি করে যদি বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার চুপচাপ বসে থাকবে না বলেও সাবধান করে দেন তিনি।

অপরদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যশস্যের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য ক্রয় করে অযথা বাজার অস্থির না করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সমস্যা হলো, আতঙ্কের কেনাকাটায় দোকানিরা ক্রেতাদের কাছ থেকে যেকোনো দাম চাইতে পারছেন।

এতে একেক জায়গায় পণ্য একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকটকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সাতটি টিমে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালাচ্ছে সংস্থাটি। অভিযানে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন অমান্য করায় বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, করোনা ভাইরাস একটি বিশ্বব্যাপী মহামারি, এটি পুঁজি করে যেন কেউ বাড়তি মুনাফা না লুটে এজন্য আজ রাজধানীর বাজারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এছাড়া দেশের সব স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাণিজ্য মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের অফিসে না এসে ঘরে বসেই কাজ করতে নির্দেশনা দিচ্ছে।

তাই শপিংমল কিংবা দোকানপাট কখন যে বন্ধ হয়ে যায়, সে আশঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্য বেশি পরিমাণে কিনে বাসায় মজুদ করতে শুরু করেছে জনগণ। এতে রাজধানীর কাঁচাবাজারসহ সুপার শপগুলোতে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। এ সুযোগে চালের দামও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
}