বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

প্রশিক্ষণ কোর্সের নামে অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

প্রশিক্ষণ কোর্সের নামে লাখ লাখ টাকার চিকিৎসা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে ভারতের একটি চিকিৎসক সংস্থা ও বাংলাদেশের কতিপয় ডাক্তারের বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক স্কিল কোর্স নাম দিয়ে চলছে এই অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য। আগামী ১৫ থেকে ১৮ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কোর্সটি অনুষ্ঠিত হবে। এই কোর্সের জন্য সারাদেশের কয়েকশ ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ একেকজন ডাক্তারের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এখনো রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে প্রতিটি কোর্স থেকে অন্তত কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে। ভারতের চিকিৎসক সংস্থাটির নাম এএমএএসআই। পুরোনাম এসোসিয়েশন অব মিনিমাল একসেস সার্জন্স অব ইনডিয়া। সংস্থাটির কিছু ডাক্তারকে এ দেশে আনা হয় ল্যাপারোস্কপিক স্কিল কোর্স এন্ড লাইভ ওয়ার্কশপ নামক কোর্সে। মূলত ল্যাপারোস্কপিক স্কিল কোর্স এন্ড লাইভ ওয়ার্কশপ একদিনের কোর্স। যেকোনো একটি হাসপাতালে রোগীর দেহে বিভিন্ন অপারেশনের লাইভ দেখিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় অংশ গ্রহণকারী ডাক্তারদের। বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে প্রতি ডাক্তারের কাছ থেকে।

প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তার ছাড়াও অনেক ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকেও অর্থ আসে। টেকনোলজি ট্রান্সফারের জন্য এ ধরনের ওয়ার্কশপের প্রয়োজন থাকলেও আপত্তি উঠেছে মোটা অংকের অর্থ আদায় নিয়ে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বা ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে হয়। এভাবে টাকা নেওয়া বেআইনি। অভিযোগ রয়েছে আদায়কৃত টাকার সামান্য অংশই ভারতের ওই সংস্থার ডাক্তারদের পেছনে খরচ হয়। বেশিরভাগ টাকাই অবশিষ্ট থেকে যায়। তার বড় ভাগ পান ভারতের ডাক্তাররা এবং বাকি টাকা আয়োজকরা।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বরাবরই টাকা ভাগাভাগির কথা অস্বীকার করা হচ্ছে। তারা বলছেন ভারতের ডাক্তারদের টাকা দেওয়া হয় না। তাদের আপ্যায়নের পেছনে আদায়কৃত টাকা খরচ করা হয় মাত্র। একই কথা বললেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ মে ল্যাপারোস্কপিক স্কিল কোর্সের আয়োজকদের একজন ডা. মতিউউর রহমান খান। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা দিয়ে ভারতের এএমএএসআই‘র ডাক্তারদের আপ্যায়ন করা হবে। নগদ প্রদান করা হবে না। তারা কোনো টাকা নেবেন না।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে ভারতের এএমএএসআই সংস্থাটি বাংলাদেশের এসব প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তারকে ভারতে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। পরে সেখানে তাদের কাছে ফেলোশিপ সনদ বিক্রি করে আরো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এই ফেলোশিপ সনদ বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃতি নেই। বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের এই সংস্থাটি বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে এবং একই ডাক্তারদের ভারতে নিয়ে ফেলোশিপ সনদ বিক্রি করে বাড়তি অর্থ আদায় করছে। সনদলোভী ডাক্তাররা এ ফেলোশিপ বিএমডিসির
স্বীকৃতি না থাকার কথা জানার পর কিনছে।

কারণ প্রেসক্রিপশনে ফেলোশিপ ব্যবহার করে যদি রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তাহলে মন্দ কী। বেশি ডিগ্রি দেখলে রোগীরা আকৃষ্ট হয় বেশি। বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রার ডা. জাহিদুল হক বসুনিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এমন অভিযোগ পেলে অবশই তদন্ত করবেন এবং প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০