মঙ্গলবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ব্রিটিশ ফ্রিজিয়ান জাতের সাড়ে তিন বছর বয়সের কালো-সাদা ষাঁড়টির নাম ‘বাংলার বস’। ওজন হবে প্রায় ৪০ মণ। ষাঁড়টির মালিক জানান, একেবারে স্বাভাবিক উপায়ে খাবার খাইয়ে বড় করেছেন এর মালিক। ষাঁড়টিকে এবার কুরবানির পশুরহাটে বিক্রির জন্য উঠানো হয়েছে। হাটে আনার পর বিক্রেতা ষাঁড়টির দাম হাঁকিয়েছেন ২২ লাখ টাকা। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুরহাট গাবতলীতে বাংলার বসকে আনা হয় যশোরের মনিরামপুর হুরগাতী গ্রাম থেকে।

জমে উঠেছে পশুরহাট

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :

করোনা সংকটের কারণে ঈদের আমেজ নেই অধিকাংশ পরিবারে। তারপরও সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি দেয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই। গত শনিবার থেকে রাজধানীর হাটগুলোতে পশু উঠলেও ছিলো ক্রেতাশূন্য।

তবে আজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শেষ মুহূর্তে পশু বেচা-কেনার ধুম পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে পশু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন বেপারীরা। এদিনগুলোতে যারা এসেছেন তাদের বেশির ভাগ ছিলো দর্শনার্থী। বেপারীরা অবশ্য এখনো আশা ছাড়ছেন না।

গতকাল বুধবারও কিছু পশু বেচাকেনা হয়েছে, তবে দাম ছিলো বেশি। ক্রেতারা বলছেন, সব হাটে গরুর দাম বেশি। বেপারীরা এখনই গরু ছাড়তে চাচ্ছেন না। তারা শেষ দুদিনের জন্য অপেক্ষা করছেন।

গতকাল রাজধানীর কয়েকটি পশুরহাট সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মঙ্গলবার রাজধানীর দুটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে। এরপর বেপারীদের মাঝে সচেতনতা বাড়লেও অনেক হাটগুলোতে এখনো স্বাস্থ্যবিধি উধাও।

হাটে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ছোট গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি গরুর দাম এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতারা বলছেন, করোনার কারণে গরুর দাম কম হবে এমনটা ধরে হাটে এসে দেখি গত বছরের মতো দাম। কোথাও আবার বেশি। ক্রেতারা আরও জানান, হাটগুলোতে পশু পর্যাপ্ত নয়।

বেপারীরা জানান, করোনায় কুরবানি কম হবে। এ কারণে রাজধানীর হাটে গরু কম এসেছে। তবে অনেক বেপারী মফস্বলে গরু কিনে রেখেছেন। শেষ মুহূর্তে যদি রাজধানীর হাটগুলোতে গরুর সংকট বা চাহিদা তৈরি হয় তবে জরুরিভিত্তিতে আনার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। হাটগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর তারা নিচ্ছেন।  

শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের পশুরহাটে গরু কিনতে এসেছেন হাজি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি আরও দুটি হাট ঘুরে এখানে আসলাম। সব হাটে গরুর দাম বেশি চাচ্ছে। বেপারীরা এখনই গরু বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।কারণ আজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন মূলত রাজধানীর হাটগুলোতে পশু বিক্রি হবে।

তিনি কয়েক বছরের গরু কেনার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, হাটে যে পরিমাণ গরু আছে তাতে শেষ মুহূর্তে একটা সংকট হতে পারে। কারণ করোনার পরও রাজধানীতে যে পরিমাণ কুরবানি হবে সে পরিমাণ গরু হাটগুলোতে নেই।

অনেকেই শেষের দিকে হাট কেমন হবে তা বোঝা যাচ্ছে না এমনটা ধরে আগেভাগেই কিনেছেন। গতকাল হাট ঘুরে দেখা যায়, ৬০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার গরু বেশি। বরাবরের মতো ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বেপারীরা বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন।

তবে দুই থেকে পাঁচ লাখ এবং ১০-১৫ লাখ টাকার ২৫ থেকে ৩০ মণ ওজনের গরুও আছে। এগুলো দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। গতকাল দুপুরে হালকা বৃষ্টির পরই পশুরহাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৪টার পর আরেক দফা বৃষ্টিপাত হয়।

এতে হাটের রাস্তাগুলো কাদাপানিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই গরু বাছাই করতে হাটের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরতে দেখা যায় কিছু ক্রেতাকে। হাটে দেখা যায়, গরু বাড়ছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় গরু কম এসেছে।

হাজারীবাগ হাটে গরু কিনতে আসা বিল্লাল হোসেন জানান, গত বছর তিনি ৮০ হাজার টাকা দিয়ে যে গরু কুরবানি করেছিলেন, এ বছর সেই আকৃতির গরু এক লাখ টাকার নিচে নামছে না।

তিনি বলেন, হাটে তুলনামূলক গরু কম দেখছি। দিনে ক্রেতাশূন্য থাকলেও রাজধানীর কুরবানির পশুরহাটগুলোতে রাতের চিত্র ভিন্ন। হাসমত আলী। বাংলার বস ও বাংলার সম্রাট নিয়ে এসেছেন গাবতলী পশুরহাটে। গরু দুটির দাম হাঁকিয়েছেন ৩০ লাখ ও ২২ লাখ টাকা। হাটের প্রধান ফটকের পাশেই হওয়ায় দর্শনার্থীদের আনাগোনাও বেশি। সবাই ছবি ও ভিডিও করতে ব্যস্ত।

কিন্তু কিনছেন না কেউই। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, চার-পাঁচদিন ধরে মানুষ শুধু ছবি তুলছে গরু কিনছেন না কেউ। এতে আরও বেশি ঝামেলা হচ্ছে। যারা গরু কিনবেন তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। অনলাইনে গরু বিক্রি নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। গরু কেনার কথা বলে একই মোবাইল নম্বর থেকে একাধিক ব্যক্তি গরুর দরদাম করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, কুমিল্লা, ঢাকা উত্তরা, গুলশানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে একই নাম্বার থেকে ফোন করে বিভিন্ন রকম কথা বলে। এতে দারুণ ভোগান্তিতে পড়েছি। এ কারণে ফোন বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয়েছি। তবে গাবতলী হাটে যারা আসছেন তারা কেউ যাচাই-বাছাই করেই কিনছেন গরু। আবার দাম কমবে এমন আশায় অনেকে ফিরেও যাচ্ছেন।

পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সিটি কর্পোরেশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পশুরহাটে এই অভিযান শুরু হয়। আফতাবনগর পশুরহাটে অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস এবং সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা।

অভিযানে ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কেনা-বেচা করে সে ধরনের লিফলেট বিতরণ করেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে হাটগুলোতে ভোক্তারা যেন কোনো অনিয়ম-প্রতারণার শিকার না হন এ বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন।

এরপরও কেউ যদি প্রতারণার শিকার হন তারা র্যাব, পুলিশ ও সেখানে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বুথে অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তদারকি করা হবে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন বলেন, গরুর হাসিল সংক্রান্তে মানুষ যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন এজন্য হাট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছি। নির্ধারিত হারের বেশি যেন হাসিল না নেয়া হয়।

আর কেউ যদি বেশি হাসিল নেয় আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। এ অভিযান ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুলাই    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
}