মঙ্গলবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
ঈদুল আজহায় স্বজনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে গ্রামের বাড়ি ছুটছে মানুষ।

করোনার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি

আকাশবার্তা ডেস্ক :

করোনাকালেও ভোগান্তির আরেক নাম ঈদযাত্রা। আসন্ন ঈদুল আজহায় করোনা ঝুঁকি উপেক্ষা করেই গতকাল সড়কে দেখা গেছে ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মানুষের চাপ যেমন বেড়েছে তেমনি সড়ক-মহাসড়কে পশুরহাট আর অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে ভোগান্তিও বেড়েছে অনেকটা।

এদিকে দূরপাল্লার বাসগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে। একই চিত্র ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দেশের সকল প্রান্তের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও। এ যেন দেখার কেউ নেই। সরকার তথা পুলিশ প্রশাসন বারবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও কোথাও চোখে পড়েনি তাদের উপস্থিতি। যে যার মতোই চলছে নাড়ির টানে।

শুধু তাই নয়, গণপরিবহনে প্রতি দুই সিটে একজন যাত্রী বহনের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই নির্ধারিত যাত্রীর চেয়েও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সড়কে চলছে হযবরল অবস্থা। এতে ঈদযাত্রায় বেড়েছে ভোগান্তি। একই চিত্র লঞ্চ-ট্রেনেও। কেউ কেউ বলছেন, এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে অনেকটা।

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল থেকে কুমিল্লার লাকসামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তিশা ট্রান্সপোর্ট পরিবহনে গতকাল দিনভর অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ২৫০ টাকা হলেও গতকাল যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৫০০ টাকা করে।

একইভাবে গাবতলী, মহাখালী মানিকনগরসহ সবকটি টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাস অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দেয় যাত্রীদের ওপর। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

আবদুল মন্নান নামের এক যাত্রী আমার সংবাদকে বলেন, দুই সিটে একজন নেবে এটা ভেবে বাসে উঠে দেখি কাউন্টার থেকে ছেড়ে গিয়ে পথিমধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। চালককে বলেও থামানো যায়নি। কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত কোথাও পুলিশ চেকপোস্ট পেলাম না যে তাদের জানাবো।

এদিকে যাত্রী বহনের বিষয়টি ছাড়াও সরকার প্রশাসনকে পশুরহাট ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে পশুরহাট নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। কিন্তু ঢাকার ভেতরকার অবস্থাই বেশি নাজুক। যাত্রাবাড়ীর কাজলা, সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশের পশুরহাট এখন সড়ক দখল করেছে।

গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নির্দেশনা সেটি কেউই মানছে না। বরং সড়ক-মহাসড়ক দখল করায় ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশুরহাট। ঢাকা জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, হাটে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।  

এদিকে দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় নানান ভোগান্তির সৃষ্টি হয় বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ফেরিতে করে চলাচল করার সময়। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাফেরায় কিছুটা হলেও সাবধানতা এনে দিলেও মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতা আর পরিবহন ও হাট কর্তৃপক্ষের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখী মানুষদের —এমনটাই বলছেন যাত্রীরা।

অতীতেও সড়ক, রেল এবং জলপথে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস, ট্রাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন যানবাহনে করে আপন গন্তব্যে ছুটে যেতে চায় মানুষ।

যাত্রীরা নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, বাসের এমনকি ট্রেনের ছাদে পর্যন্ত ওঠে। আবার অনেককেই দেখা যায় ট্রাকে উঠেও বাড়ি ফিরতে। ঈদের সময় যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বাস এবং রেল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ট্রেনের ব্যবস্থা করেন।

অথচ করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদের চিন্তা মাথায় রেখে অতিরিক্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল রাখেনি। তবে দূরত্ব বজায় রেখে গণপরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলা হলেও তাও কার্যত ফাঁকা বুলি।  

নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। লঞ্চ, স্টিমার, ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। তীব্র যানজট এবং বিভিন্ন স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামায় সময় বেশি লাগার কারণে বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারে না।

এসময় যাত্রীদের মালামাল নিয়ে দীর্ঘ সময় কাউন্টারে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। শিশু এবং বৃদ্ধদের ঈদযাত্রায় কষ্ট হয় সবচেয়ে বেশি। সদরঘাটে গতকাল দেখা গেছে সেই আগেরই চিত্র।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুলাই    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
}