বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

ওসি প্রদীপের মিথ্যা মামলায় ১১ মাস ধরে কারান্তরীণ সাংবাদিক

আকাশবার্তা ডেস্ক :

আপনজন কারান্তরীণ হলে স্বজনদের ঘুম হারাম- এমনটাই সবার জানা থাকলেও চট্টগ্রামের সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের বেলায় ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা।

মাদকের মিথ্যা মামলায় ১১ মাস ধরে কারাগারে থাকলেও ‘কক্সবাজার বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা খানকে জামিনে ছাড়াতে পরিবারের নেই কোনো উদ্যোগ।

তবে এর কারণ পারিবারিক অর্ন্তকলহ নয়। ওসি প্রদীপের ক্রসফায়ারের ভয়ে কারাগারকেই নিরাপদ মনে করছেন ফরিদুলের পরিবার।

কেন কারান্তরীণ এই সাংবাদিক— এ বিষয়ে বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েই বেরিয়ে আসছে এমন তথ্য। টেকনাফের ওসির প্রদীপের রোষানলে পড়ে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার জীবন কাটছে এখন কারাগারে।

এর আগে মিথ্যা মামলায় রিমান্ডের নামে এই সাংবাদিকের ওপর ওসি প্রদীপ চালিয়েছে অমানবিক নির্যাতন। চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতন করায় বর্তমানে দুটি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া তার হাত-পাও ভেঙে দিয়েছে পুলিশ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। ওসি প্রদীপ কুমারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখেতে গিয়েই আজ জীবন হারাতে বসেছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান।

জানা গেছে, ওসি প্রদীপের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরেই কক্সবাজার বাণী পত্রিকার সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফাকে মাদক মামলায় ফাঁসায় প্রদীপ কুমার দাস। ক্রসফায়ারের ভয়ে রাতের আঁধারে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে আসা ফরিদুল মোস্তফার জীবন আজ নিস্তেজ। অসহায় স্ত্রী, সন্ত্রান, পিতা-মাতাও।

আর এ অসহায়ত্বের একমাত্র কারণ ওসি প্রদীপের দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ। অন্ধ প্রায় চোখ, হাত ভাঙা, আঙ্গুল থেঁতলানো মোস্তফা হয়তো আর কোনোদিন সাংবাদিকতাই করতে পারবে না।  

সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওসি প্রদীপের একের পর এক ঘটনা জনসম্মুখে আসছে। তার মধ্যে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনাও একটি। তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করতো টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ।

কোনো পরোয়ানা ছাড়াই ঢাকার পল্লবী থেকে তাকে ধরে নিয়ে টেকনাফ থানায় তিনদিন আটকে রেখে করা হয় অমানুসিক নির্যাতন। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে।

২০১৯ সালে ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন। কিন্তু মুক্তি মেলেনি ফরিদুল মোস্তফা খানের।

তার স্ত্রী হাসিনা আক্তার বলেন, তার স্বামী বিভিন্ন সময় টেকনাফ থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তাকে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

সে সময় তার চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতন করায় বর্তমানে দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ ছাড়া তার হাত-পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসক জানিয়েছেন তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান বলেন, তাদের পরিবারের কেউ কোনো মামলার আসামি নয়। কখনো তারা কোনো অনিয়মে জড়াননি। এরপরও পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় তার বাবাকে মামলা দিয়ে সমাজে তাদের পরিবারটিকে হেয় করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, ওসি প্রদীপের নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এত দিন ওসির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি। সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর ওসির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছি।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। কোনো সভ্য মানুষ কিংবা পুলিশের দ্বারা চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটানো, বেয়নেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খুঁচিয়ে এমনকি গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছিল।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল বশর বলেন, প্রথম এক বছর ওসি প্রদীপের কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করেছিলেন। সরকার যে উদ্দেশ্যে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল, পরে তা থেকে তিনি সরে আসেন। তার কর্মকাণ্ড ছিলো মারমুখি। যাকে খুশি তাকে ধরে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে ক্রসফায়ার দিতেন। এমন কি সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান ওসি বিরুদ্ধে সংবাদ লিখতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন। এখন দুই চোখ হারাতে বসেছে। তার বিচার হওয়া উচিত।

নুরুল বশর আরো বলেন, একজনকে বন্দুকযুদ্ধ দিয়ে ১৫-২০ জনকে আসামি করতো প্রদীপ। এভাবে তার মামলার জালে অনেকে আটকে যেত। মামলার ভয়ে অনেকে দেশও ছেড়েছে। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার প্রদীপের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। অনেকে তা আমলে নিতো না। কারণ, স্থানীয় এমপি ওসি প্রদীপের সব কাজকে সমর্থন দিতেন।

সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০