সর্বশেষ:
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা : হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সভা লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া

‘আব্বা গো তোর আল্লাহর দোহাই ছাড়ি দে’

মো. শাহাদাত হোসেন নিশাদ :

রোববার রাতে হঠা‍ৎ ফেসবুকে তুমুল ঝড়। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় গোঙাচ্ছে, কাঁদছে এক নারী। সেই সঙ্গে বলছে- ‘আব্বা গো তোর আল্লাহ’র দোহাই ছাড়ি দে! আর আশপাশের ২০-২৫ বছরের ছেলেগুলো হায়েনার মতো হাসছে আর বলছে-উল্টা, উল্টা, উল্টা! কারণ বিবস্ত্র ওই নারী নিজেকে বাঁচানোর জন্য ওপর হয়ে শুয়ে কাঁদছিল আর বলছিল- এরে আব্বা গো, তোগো আল্লাহ’র দোহাইরে।

এটি কোন যুদ্ধের সময়ের বর্বরোচিত গল্প নয়। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনা এটি।

জানা যায়, বেগমগঞ্জে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এক মহিলার ঘরে প্রবেশ করে মহিলাটিকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে পিটিয়ে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে তার ভিডিওধারণ করে। বিবস্ত্র নারীর গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে একজন। তার যৌনাঙ্গে টর্চলাইট ও লাঠি ঢুকিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

মহিলাটি যখন বারবার হাত দিয়ে নিজের উন্মুক্ত শরীরের আবরু ঢাকার চেষ্টা করছিল,বারবার চি‍ৎকার করে বলছিল ‘আব্বা গো তোর আল্লাহর দোহাই ছাড়ি দে’।  কিন্তু টনক নড়েনি ওই নরপশুদের। বরং নারীকে ঘিড়ে উল্লাস করছিল তারা।

মানুষ নামের কলঙ্ক ওই পাঁচজন শুধু গৃহবধূকে বিবস্ত্র করেই ক্ষান্ত হয়নি, গত ৩২ দিন ধরে ওই পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। যার কারণে আমার এই অসহায় বোন তার অসহায়ত্ব নিয়ে কারও কাছে এই ঘটনা বলতে পারেনি। একবার ভাবুন, তারা যদি ভিডিওটি ফাঁস না করত তাহলে ৩২ দিন কেন, ৩২ মাসেও প্রশাসন টের পেত না। আজ কষ্ট লাগে ধর্ষকরা যখন ভিডিওটি ভাইরাল করলো আপনারা সেই ধর্ষকদের ভাইরাল না করে ভিডিওটি ভাইরাল করে দিলেন। এখন বাকি জিবনটা আমার এই বোন এই কলঙ্কের বোঝা নিয়ে বাঁচতে হবে। যার জন্য দ্বায়ী আপনারা।

ফেসবুকে দেখলাম অনেকেই দেলোয়ার গ্যাংয়ের বিচার চাইছে। আমি বুঝতে পারছি না, আমি কী চাইব। কীসের বিচার, কার বিচার, সাক্ষী কই, প্রমাণ কই, আলামত কই? ৩২ দিন আগের আলামত তো আর নেই। বিচারের নামে এখন প্রহসন চলবে। মামলা আদালত পর্যন্ত গেলে সেখানে দেলোয়ারদের আইনজীবী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নির্যাতিতার বিবস্ত্র শরীরে বর্ণনা, হাজারটা ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করবে। ভরা কোর্টে বারবার লাঞ্ছিত হবে আমাদের এই বোনটি। হয়তো সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে দেলোয়াররা মুক্তি পেয়ে যাবে।

কিন্তু আমরা মুক্তি পাব না, কিছুতেই মুক্তি পাব না। আমাদের বিবেকের মাথায় ভাঙারেকর্ডের মতো বাজতে থাকবে আমার সেই বোনটির আহাজারি।’আব্বা গো তোর আল্লাহর দোহাই ছাড়ি দে।’

আজকে এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে আসামীরা গ্রেফতার হয়েছে। কিন্তু সারাদেশে প্রতিদিন এমন অনেক নারী ধর্ষিত হচ্ছে যারা এইসব গ্যাংদের কারণে মুখ খুলতে পারছে না। আসুন না এই সমাজটাকে একটু বদলে দিই। আমাদের প্রজন্মকে ভালো কিছু শিক্ষা দিই। আপনাদের কারণে পরবর্তী প্রজন্ম শিখছে এদেশে ধর্ষণ করা যায়। সব কিছুর জন্য সরকারকে নই এবার নিজেকে দ্বায়ী করি। আমার পাশের বাড়ীর বোনটি ধর্ষিত হলে আমি ঘরে বসে থাকি। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমার বোনটি আপনার কাছে নিরাপদ না থাকলে আপনার বোনটিও যে কারও কাছে নিরাপদ থাকবে না।

লেখক : শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930