সোমবার ২২শে জুন, ২০২৬ ইং ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগীদের লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন

পানি নামলেও বাড়ছে কষ্ট

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

সিলেট-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে৷ জেলা প্রশাসনের হিসাবে ৯০ শতাংশ মানুষ বাড়িতে ফিরেছেন৷ কিন্তু বাড়ি ফিরেও কষ্টের শেষ নেই৷ খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, ক্ষতিগ্রস্ত ঘর সংস্কারে এখন তাদের নাভিশ্বাস৷

অনেকেই আবার আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে গিয়েছেন৷ কারণ বাড়িতে ফিরে নেই খাওয়ার নিশ্চয়তা, বাড়ি সংস্কারে হাতে নেই কোন টাকা৷ সামনে কী করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তাদের৷ সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ কার্যক্রম চললেও দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন৷ গত চার দিন সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা দুর্গত এলাকা ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলেছে৷

গত বুধবার বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গিয়েছে, বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে৷ ত্রাণের হেলিকপ্টার দেখে শত শত মানুষ ভিড় করছেন৷ তাদের অভিযোগ অপেক্ষাকৃত কাছের এলাকাগুলোতে অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছেন৷ কিন্তু দুর্গম এলাকায় কেউ যাচ্ছেন না৷

সিলেটের ভোলাগঞ্জের বর্ণি গ্রামের ৯০ বছরের বৃদ্ধা পেয়ারা বেগম ভোলাগঞ্জ রাস্তার পাশে এসেছেন ত্রাণের খাবার নিতে৷ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় পেয়ারা বেগম বলছিলেন, তার বাড়িতে এখনও কোমর সমান পানি৷ দু’ বেলা খাবারের জন্যই এখন তার সংগ্রাম৷ তার সঙ্গে ত্রাণ নিতে এসেছেন হাফিজুন নেছা৷ সত্তরোর্ধ্ব এই নারী বললেন, ঘরে এখনও হাঁটু পর্যন্ত পানি, দুগর্ন্ধে থাকা যায় না৷ সেখানেও নেই কোনো খাবারের ব্যবস্থা৷ রিলিফ দেওয়া বন্ধ হলে কীভাবে চলবেন তা নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা৷ ওই এলাকায় ত্রাণের নৌকা বা গাড়ি দেখলেই ছুটে আসছেন শত শত মানুষ৷ দুই বেলা খাবারের জন্য তাদের প্রাণান্তকর যুদ্ধ৷

তবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি৷ ৯০ শতাংশ মানুষ বাড়িতে ফিরে গেছেন৷ তাদের ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে৷ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের ঘর মেরামতে সহায়তা করা হবে৷ সেই কাজে সহায়তা করতে একটু সময় লাগবে৷’’

সবাই ত্রাণ পাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘‘সুনামগঞ্জের প্রবেশ মুখেই আমরা দুইজন অফিসারকে বসিয়ে রেখেছি৷ যারা ত্রাণ দিতে আসছেন তারা যেন বিভিন্ন উপজেলায় যান সেই নির্দেশনা তারা দিচ্ছেন৷ ফলে সবাই পাচ্ছেন৷ তবে কিছু দুর্গম এলাকায় সঠিকভাবে পৌঁছানো গেছে সেটা আমি বলব না৷’’

বৃহস্পতিবার সিলেটের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গিয়েছে, অনেকেই ফিরছেন ঘরে৷  কিন্তু তাতেও হাজার বাধা৷ আশ্রয়কেন্দ্র দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাড়িতে ফিরে সেই নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা৷ বিপর্যস্ত বাড়িঘর কীভাবে মেরামত করবেন, তা নিয়েও চিন্তার শেষ নেই৷

সিলেটের সাহেবের বাজারে ত্রাণ নিতে আসা ৫৬ বছর বয়সি মকবুল হোসেন জানালেন, তার বাড়ি থেকে পানি নেমে গেছে৷ কিন্তু মাটি আর বাঁশ দিয়ে বানানোর ঘর এখন সোজা করবেন কীভাবে? কোথাও কোনো কাজ নেই৷ দিন এনে দিন খেয়ে চলে তার সংসার৷ তিনি জানান, খাবারের চেয়ে বিধ্বস্ত বাড়ি ঘর মেরামতেই এখন তাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন৷

সিলেট শহরের নিচু এলাকায় এখনও পানি জমে রয়েছে৷ এইসব জায়গার মানুষ শহরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও রয়েছেন৷ শহরের মীরাবাজারের কিশোরীমোহন (বালক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি ভবনে ১২০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে৷ সিলেট শহরের যতনপুর এলাকা থেকে এসে দুই সন্তান নিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন ৩৮ বছরের সুফিয়া বেগম৷

আলাপকালে এই নারী বললেন, ‘‘মাসে তিন হাজার টাকায় একটি বস্তিঘরে থাকতাম৷ এখনও ঘরে হাঁটু পর্যন্ত পানি৷ দুগর্ন্ধে ওই এলাকায় যাওয়া যাচ্ছে না৷ এই আশ্রয়কেন্দ্রে তাও কিছু খাবার পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বাড়ি ফিরলে আমরা কী খাব? আমার স্বামী একটি সবজির দোকানে কাজ করতেন৷ মালিকের সব সবজি পচে গেছে৷ এখনও দোকান চালু হয়নি৷ এখান থেকে চলে যেতে বলছে, আমরা কোথায় যাব? সন্তান দু’টিকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব?’’

একই আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন ৭৬ বছরের ইসমাইল শেখ৷ খাঁ পাড়া থেকে তিনি এসেছেন৷ সন্তানরা খাবারের সন্ধানে বেরিয়েছে৷ আশ্রয়কেন্দ্রের বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি৷ দুই ছেলে কীভাবে আবার ঘর নির্মাণ করবে, টাকা পাবে কোথায় এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় যাচ্ছে ইসমাইল শেখের৷ কিন্তু কোনো কুল কিনারা পাচ্ছেন না৷

সিলেট শহরের শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের আশ্রয় কেন্দ্রেও ঠাঁই হয়েছে প্রায় ১৫০টি পরিবারের৷ এখানকার অধিকাংশ মানুষ এসেছেন যতনপুর থেকেই৷ ৪৬ বছরের আসিয়া খাতুন বললেন, ছয় জনের সংসার তাদের৷ এক ছেলে কাজের উপযোগী৷ সকালেই সে বেরিয়েছে কাজের সন্ধানে৷ কিন্তু ছেলের দুইটি শিশু নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন তিনি৷ নিজেরা ভাত-খিচুড়ি যা খাচ্ছেন এক বছর বয়সি শিশুকেও তাই খাওয়াতে হচ্ছে৷ এখন পর্যন্ত কেউ শিশুদের জন্য কোনো খাবার দেয়নি৷ হাতেও কোনো টাকা নেই যে কিছু কিনবেন৷ তিনি বলেন, এই আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ৫০টি বাচ্চা আছে৷ তাদের সবারই খাওয়ার কষ্ট হচ্ছে৷ অনেক বাচ্চার পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে৷ তাদের কীভাবে চিকিৎসা হবে তারও নেই কোন নিশ্চয়তা৷

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সিলেট-সুনামগঞ্জের সব এলাকা থেকেই পানি নেমে যাচ্ছে৷ এই মুহূর্তে আর কোনো শঙ্কা নেই৷ তবে বন্যা মৌসুম যেহেতু শুরু, ফলে সামনের মাসে উত্তরাঞ্চলে বন্যা হতে পারে৷ সবগুলো নদ-নদী থেকে পানি কমছে৷ আসলে বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে৷ আগামী কয়েকদিনে আরও উন্নতি হবে৷’’

সূত্র : ডয়চে ভেলে বাংলা।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

জুন ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০