রবিবার ৩১শে মে, ২০২৬ ইং ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভবনের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে ১২শ’ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ঘোষণা : কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা অনুমোদন : লক্ষ্মীপুরে আনন্দ মিছিল চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা

সংসদ নির্বাচনে : বড় পরিবর্তনের আভাস আ.লীগে

আকাশবার্তা ডেস্ক :

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ অথবা আগামী বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিভাগীয় শহরে জনসভা করেছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব জনসভায় সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে আগামীতেও নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ একাধিক বৈঠকে দলকে নির্বাচনমুখী করার নির্দেশনাও দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে যোগ্য, জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। সেইসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেন কোন্দলে না জড়ায় সে ব্যাপারেও দিয়েছেন কঠোর বার্তা। মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের সম্পর্কে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা দিয়ে জরিপ চালাচ্ছেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই জরিপ চলবে। বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে এলাকায় যাদের অবস্থান ভালো, তাদের পুনরায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি দিয়েছেন নানা নির্দেশনা।

এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা গণসংযোগ করছেন। জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নানা শ্রেণিপেশা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। সাবেক ছাত্রনেতা, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও সেনাকর্মকর্তা, প্রবাসী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনের অনেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়- যাতে সব শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

দলীয় একাধিকসূত্রে জানা গেছে, তিনশ আসনেই প্রার্থীদের আমলনামা সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। চেহারা দেখে নয়; যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে- এমন আভাসও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। তাদের জিতে আসতে হবে নিজ যোগ্যতায়।

আওয়ামী লীগের বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন শুধু

তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। এলাকায় যারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন। গ্রুপিং করতে গিয়ে হাইব্রিডদের কাছে টেনে নিয়েছেন। নিজ দলের কর্মীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। লুটপাট-দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে পারিবারিকতন্ত্র কায়েম ও বিভিন্ন দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। করোনাকালে এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন না। ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়েছেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেছেন।

যাদের কারণে দল ও সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে- এ রকম যারা বর্তমান সংসদ সদস্য কিংবা মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন, তাদের সবার তালিকা করা হয়েছে। আগামীতে আর কোনোভাবেই তাদের মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতেও এমনটাই হয়েছিল। তবে এবারের নির্বাচনে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আরো কঠোর অবস্থানে আওয়ামী লীগপ্রধান। তিনি কাউকেই ছাড় দিতে নারাজ। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন তার একটি বড় উদাহরণ। দলটির নেতারা মনে করছেন, সিটি নির্বাচনের মনোনয়ন আগামী জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা।

গত ১৩ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় এমপিদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেছিলেন, আমার কাছে সবার আমলনামা আছে। আমলনামা দেখেই আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেব। জনগণের সঙ্গে যাদের সুসম্পর্ক আছে। সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারাই নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। আর যারা জনবিচ্ছিন্ন। নির্বাচিত হয়ে ঢাকা আর বিদেশে পড়ে ছিলেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, জনবিচ্ছিন্ন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। যেসব এমপি গ্রুপিং সৃষ্টি করতে গিয়ে নিজ দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। তাদের মনোনয়ন দেব না- এটা সাফ কথা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫টির মধ্যে তিনটিতে মেয়র পদে আমাদের প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। এ পরিবর্তনের হার ৬০ ভাগ। জাতীয় নির্বাচনে কী রকম পরিবর্তন আসতে পারে- তার একটি স্পষ্ট বার্তা এখানে দেয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি তৃণমূলে দলের প্রকৃত অবস্থা জানতে বেশ কয়েকটি জরিপ চালাচ্ছেন। কিছু দেশি-বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে এই জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফলাফলও তিনি পেয়েছেন। জরিপের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে। এর মধ্যে যাদের অবস্থান ভালো তাদের পরোক্ষাভাবে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এলাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন। সেইসঙ্গে আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে- সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলীয় প্রধানের এমন নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন দুজন সংসদ সদস্য। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও এবারের নির্বাচন আরো কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হবে। সেটি মাথায় রেখেই তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিরোধী দল অনেক বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ভোটারদের ভয়ভীতি ও নিরুৎসাহিত করতে পারে। সেজন্য ভোটারদের পাশে থাকতে হবে। সেইসঙ্গে এলাকায় অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কোনো প্রকার বিরোধে না জড়াতে বা তাদের বাধা না দিতেও বলেছেন। বিশেষ করে ১৪ বছরে সরকার যে উন্নয়ন করেছে- তা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে বলেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতি বারই পরিবর্তন হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। যারা দলের আস্থা হারিয়েছেন দল তো কোনোভাবেই তাদের মনোনয়ন দেবে না। এটাই স্বাভাবিক।

সূত্র : ভোরের কাগজ

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১