সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ছুরিকাঘাতে শিশু নিহত, ঘাতক পলাতক চন্দ্রগঞ্জে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও পথসভা সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে চুন কারখানা পরিচালনায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় চন্দ্রগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস কার্যক্রম উদ্বোধন নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার লক্ষ্মীপুরের শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নির্বাচিত মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের চন্দ্রগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর : দখল দূষণে মরে যাচ্ছে ওয়াপদা ও রহমতখালী খাল

আকাশবার্তা ডেস্ক :

লক্ষ্মীপুরে দখল আর দূষণে মরে যাচ্ছে দুটি খাল ‘ওয়াপদা’ ও ‘রহমতখালী’। এ দুটি খাল এখন ময়লা আবর্জনার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অথচ, যে খালের স্বচ্ছ পানিতে থাকার কথা ভরপুর মাছ, সে খালের পানিতে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা আর পোকামাকড়। যে পানি গোসলসহ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হতো, সে পানি এখন কালো রঙ ধারণ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে, জীব বৈচিত্রের অস্তিত্ব হারিয়ে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে পরিবেশ।

লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জে বাজারের দক্ষিণ পাশের কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে ওয়াপদা খাল। পাশাপাশি ওয়াপদা খাল গিয়ে মিলেছে জেলা শহরের রহমতখালী খালের সাথে। ঐতিহ্যবাহী খাল দুটি জেলাবাসীর জন্য আশির্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খালের দুইপাড়ে ভূমিদস্যুদের তৈরী দোকানঘরের কারণে একদিকে খাল দুটি তার প্রশ^স্ততা হারিয়ে সরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে বড় বড় বাজারগুলোর ময়লা আবর্জনা এবং বাসাবাড়ির ফেলা ময়লার কারণে দূষিত হয়ে ভয়াবহ চিত্র ধারণ করেছে খাল দুটি। অন্যদিকে দীর্ঘসময় খনন না করায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে খাল দুটি। ফলে পানি প্রবাহ ঠিকমত হচ্ছে না। মানবসৃষ্ট এ সংকটের কারণে খাল দুটি এখন অস্তিত্ব বিলীনের পথে।

একসময় রহমতখালী খালটিকে নদী নামে ডাকা হলেও কালের বিবর্তনে এটি খালে পরিণত হয়। কিন্তু, এখন সেই খালের অস্তিত্বও নেই। স্থানীয়দের মতে দখল-দূষণ এবং সংস্কারের অভাবে খালের বিভিন্ন স্থান সংকুচিত হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব মতে ওয়াপদা খালটি লক্ষ্মীপুর অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং রহমতখালী খালটি ৪০ কিলোমিটার।
স্থানীয়রা জানায়, খাল দুটি বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি বোরো মৌসুমে মেঘনানদী থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে ইরি চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ ছিল। আর মৎস্যজীবীদের আয়ের উৎস ছিল খালের মাছ। তিন যুগ আগেও খাল দিয়ে চলাচল করত মালবোঝাই নৌকা। এর সবকিছু যেন এখন গল্পের মতো হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়াপদা ও রতমতখালী খাল দুটির বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। এতে বাজারে অবস্থিত দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে খালের পানি। বয়লার মুরগীর বিষ্ঠা ও মুরগীর ড্রেজিংকৃত উচ্ছীষ্ট ফেলার কারণে সেগুলো পঁচে পোকামাকড়ের অভয়ারন্য তৈরী হয়েছে সেখানে। অনেকগুলো মুরগী দোকান পড়েছে খালের ওপর।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সহিদ মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রবাহমান ওয়াপদা খাল। খালের পানিতে পোকামাকড়, মশা-মাছি এবং দুর্গন্ধের কারণে আমাদের বসবাস করা খুবই কষ্ট হচ্ছে। শিশুরা খেলাধূলা করে খালের পানিতে গোসল করে। এতে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সদর-বাপাউবো) ইমতিয়াজ মাহমুদ জানিয়েছেন, রতমতখালী খাল খনন করার জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রহমতখালী ও ওয়াপদা খালের উপর অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে তালিকা করা হচ্ছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি।

যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও মানবসম্পদ) পদ্মাসেন সিংহ বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা তৈরী শেষ হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031