আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলা নববর্ষ বিভিন্নভাবে পালিত হয় আমাদের বাংলাদেশে। এবারের পহেলা বৈশাখ হয়েছে বেশ কয়েকদিন হলো কিন্তু এখনও এর রেশ কাটেনি। তাইতো র্যাবের বর্ষববরণ অনুষ্ঠানে নতুন চমক দেখা গেলো। পালকিতে চড়ে র্যাবের সদর দফতরে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।
সোনালী রঙের একটি খোলা পালকির ব্যবস্থা করে মন্ত্রীকে কাঁধে করে নিয়ে গেছেন র্যাব কর্মীরা। গাড়ির চলনের আগে দেশে সম্ভ্রান্ত শ্রেণি বা সম্পদশালীদের চলাচলে ব্যবহার করা হতো এই পালকি। এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করেই মন্ত্রীর পাশাপাশি র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকেও একইভাবে বরণ করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা।
শনিবার (২১এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদরদপ্তরের শহীদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হলেও এর আয়োজক ছিল রাজধানীর টিকাটুলি এলাকার র্যাব-৩।
গত ১৪ এপ্রিল সারাদেশে মহাসমারোহে বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়। তবে র্যাব-৩ এই আয়োজন করেছে এক সপ্তাহ পর। দুপুর একটার দিকে প্রধান অতিথি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন অনুষ্ঠানস্থলে যান। আর তিনি গাড়ি থেকে নামার পর তাকে মঞ্চে নেয়া হয় পালকিতে করে।
মন্ত্রীর মতো পালকিতে পড়ার সুযোগ পান র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও। তাকেও একইভাবে মঞ্চে তোলা হয়। তার মঞ্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান বেনজীর।
মন্ত্রীর পালকিতে বসা অবস্থায় কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই ছবিতে মন্ত্রী অবশ্য সপ্রভিত ছিলেন না। তিনি খানিকটা অপ্রস্তুত বা এভাবে বসে থাকতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট।
মন্ত্রীকে বহন করা গাঢ় নীল পোশাক পরা বেহারাও সবাই র্যাব সদস্য। আশেপাশে থাকা সবাই তখন সে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার কাজে ব্যস্ত। বর্ষবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পর মধ্যাহ্নভোজনেও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ বিষয়ে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক এমরানুল হাসান বলেন, ‘প্রতিবছরই র্যাবের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়। তবে এতদিন পালকির সংযোজন ছিল না। এই প্রথম এটা আনা হয়েছে।’
পালকি সংযোজনের কারণ জানতে চাইলে এই র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। সে জন্যই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ব্যাবের ডিজি মদোহয়কে পালকিতে চড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর আমরা এমন আয়োজন রাখার চেষ্টা করব।’
র্যাব সদরদপ্তরের একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, পালকি গ্রামীণ ঐতিহ্য হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং র্যাব প্রধানকে পালকিতে তোলায় সমালোচনা হবে এটা নিশ্চিত। তবে এখানে আনন্দ করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তাই এটা নেতিবাচকভাবে না দেখার অনুরোধ করেছেন তিনি।