বিনোদন ডেস্ক :
তিনি বলেন, ‘এই মামলার তদন্তের স্বার্থেই সালমান শাহকে যে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করি। সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে নেওয়া হয়। তখন যে ডোম ছিলেন, তদন্তের সার্থে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাই। আদালত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন।’ তবে কোন চিকিৎসক সালমান শাহকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছিলেন, সেই চিকিৎসকের নাম এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম।
সালমান শাহর আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, সালমান শাহ যেদিন মারা যান, সেদিন রুবি নামের এক নারী ইস্কাটনের ক্লাব ও মেডিকেল সেন্টারের একজন চিকিৎসককে সালমান শাহের বাসায় নিয়ে আসেন। ওই চিকিৎসক দেখে বলেন, সালমান শাহ মারা গেছেন। সেখানে ওই চিকিৎসক সালমান শাহ মারা গেছেন জানিয়ে সনদও দেন। ফারুক আহমেদ জানান, রুবি এই মামলার একজন আসামি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানানো হয়। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়টি এক সঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
৩ নভেম্বর ১৯৯৭ সালের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডি’র প্রতিবেদন প্রত্যাখান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
মামলাটিতে র্যাবের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন। পরে পিবিআইকে মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন :-