বিশেষ সম্পাদকীয় ০০:০১, ২৬ মি. মে ০৩, ২০১৮
সমাজটা কী দিন দিন পঁচে যাচ্ছে? একটি সমাজে কতজন মানুষ আমাকে পছন্দ করে, কতজন আমাকে শ্রদ্ধা করে, কতজন আমার কথা বিশ্বাস করে। তা বোঝার সক্ষমতা না থাকলে বা বোধশক্তি হারিয়ে ফেললে যেকোনো মানুষ হিংস্র রূপ ধারণ করে। তখন আর ওইসব মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা। কারো বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা অপবাধ রটনা করলে বা তা সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সেই মিথ্যা কথাটিরও একটি যোগসূত্র থাকতে হয়। কিন্তু যে কথার শূণ্য পরিমাণ বা একটি ধূলিকণা পরিমাণ বিশ্বাস যোগ্যতা নেই, তা কখনও সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা সফল হয়না।
আমাকে মনে রাখতে হবে অপরকে সন্মান করলে আমি নিজে সন্মানীত হব। অপরকে শ্রদ্ধা করলে বা তার মতামতকে সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে গ্রহণ করলে আমার মতামতটুকুও অন্যের কাছে গুরুত্ব পাবে। আমি সবসময় অন্যের মতামত বা পরামর্শ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তা ভালো মনে হলে গ্রহণ করি। কারণ এটাই হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ প্রতিষ্ঠার জন্য কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাধ দেওয়ার চেষ্টা করা একটি গর্হিত অপরাধ। সাময়িকভাবে এমন প্রপাগান্ডা কখনও কখনও প্রতিষ্ঠা করা গেলেও একসময় সত্য প্রকাশ পাবেই। আর তখন এ সমাজ আমাকে ভালো চোখে দেখবেনা বা ভবিষ্যতে আমার কোনো কথাই আর কেউ বিশ্বাস করবেনা।
আমি কী চাই? আমি তো তা নিজেই জানিনা। আমি একটা জানি, শুধু অপরের সমালোচনা আর মিথ্যা অপবাধ দিয়ে মানুষকে মানসিক যন্ত্রণা দিতে জানি। এর মাধ্যমে সাময়িকভাবে আমি পুলকিত হলেও সমাজে একেকটা দিন শুধু আমার শক্রই বাড়বে বন্ধু কেউ থাকবেনা। প্রত্যেকটি মানুষ তার কর্মে এবং বিশ্বাসে বেঁচে থাকে। সবাইকে মনে রাখা দরকার, ওপরে মহান আল্লাহ একজন আছেন, যিনি চরম ন্যায় বিচারক। কাউকে ছোট করার মানসিকতা পোষণকারী কোনো ব্যক্তি অবশ্যই ভালো মানুষ হতে পারেনা।
কীসের এত অহংকার আমাদের? পদ-পদবি, ক্ষমতা, ধন-সম্পদ এসব একজন মানুষকে প্রকৃতপক্ষে সুখী করতে পারেনা। পরমত সহিষ্ণতা, আত্মবিশ্বাস, পারস্পরিক মান-মর্যাদা প্রদর্শণ একজন মানুষ অন্যের হৃদয়ের উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অহমিকা, দম্ভ, মিথ্যা, পরশ্রীকাতরতা, হিংসা-প্রতিহিংসা একজন মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আসুন, আমরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি এবং মানুষকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসতে শিখি।
লেখক : মো. আলী হোসেন, সম্পাদক-আকাশবার্তাবিডি ডটকম।