আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ মাদকবিরোধী যুদ্ধে নেমেছে। মাদককে ‘সমাজের ক্যানসার’ আখ্যায়িত করে তা নির্মূলে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (০৫জুন) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন স্টেডিয়ামে ঈদবস্ত্র বিতরণকালে বক্তৃতা করছিলেন ডিএমপি কমিশনার। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) উদ্যোগে এই ঈদবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ‘ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ঈদ উপলক্ষে এক ২০০টি নতুন ঈদবস্ত্র বিতরণ করে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এসময় সাধারণ সম্পাদক উপ-পুলিশ কমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ারদারসহ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মাদক সমাজে ভয়াবহ ক্যানসারে রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই যুদ্ধে সফল হতে হলে অতীতের মতো আপনাদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘মাদক বিক্রেতাদরে কোনো খবর জানা থাকলে পুলিশকে জানাবেন। মাদক বিক্রেতা সে যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা মহানগরীতে সব মাদকের আখড়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’ ‘মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এতে ধরা পড়ছে মাদক বিক্রেতারা। সেই সঙ্গে উদ্ধার হচ্ছে উল্লেখযোগ্য মাদকদ্রব্য। আসুন সবাই মিলে জঙ্গিবাদের মতো মাদককে দমন করি।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মাদক ব্যবসায় যত বড় প্রভাবশালীই জড়িত থাকুক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা মাদকের ব্যবসা করে, অর্থলগ্নি করে, ঘর ভাড়া দেয়, আস্তানার জায়গা দেয় তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ঢাকা শহরের কোনো মাদকের আস্তানা থাকবে না। আমাদের মধ্যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সে যত বড় পদেই থাকুক না কেন, তাকেও কোমরে দড়ি বেঁধে হুড়হুড় করে টেনে নিয়ে আসা হবে।
অসহায় ও দুঃস্থদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে কমিশনার বলেন, আপনারা শুধু মনে করেন পুলিশ আসামি ধরে, এটা ঠিক না। আমরা আপনাদের মত মানুষ। আমরা রাতে পাহারা দেই বলে আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমান। আমরা ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। ডিএমপি ঈদে, শীতে ও যেকোন দুর্যোগে আপনাদের পাশে থাকে। আপনাদের পাশে থাকা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। মানুষ হিসেবে এটা আমাদের কর্তব্য। ঈদে নতুন কাপড় পরবে সবাই এই চিন্তা করেই আমরা প্রতিবছর ঈদে আপনাদের পাশে দাঁড়ায়।