আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকার শাহবাগ থেকে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে নিয়ে গেছে র্যাব। বুধবার (০৬জুন) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে এক কর্মসূচি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে আসার পর সাদা পোশাকের কয়েকজন তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সেখান থেকে তাকে নিয়ে যায় র্যাব।
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক রিয়াজুল আলম ভূঁইয়া বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ইমরান শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আসেন।“তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে র্যাব সদস্যরা জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তিনি কোথায় আছেন-আমরা সেটা জানিও না।”
ইমরানকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করে র্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান বলেন, “র্যাব-৩ সদস্যরা কিছুক্ষণ তাকে শাহবাগ এলাকা থেকে ধরেছে।”
ইমরানকে কেন আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ এমরানুল হাসান বলেন, “শাহবাগে অবৈধ সমাবেশ করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা কাউকে আটক করিনি। ছাত্র ইউনিয়নের একটি মানবন্ধন চলছিল। সেখানে ইমরান এইচ সরকারও ছিলেন।’তাকে আটক করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
২০১৩ সালে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনের সময় ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান ইমরান এইচ সরকার। ওই বছর জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ডাকে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয় জনতা।
পরে গড়ে উঠে গণজাগরণ মঞ্চ। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি পূরণ হওয়ার পরও গণজাগরণ মঞ্চ নানা ইস্যুতেই সক্রিয় আছে। তার বর্তমানে সরকারের কঠোর সমালোচক হয়ে উঠেছেন ইমরান। রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ইমরান ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগে যুক্ত ছিলেন।
এএইচ/আমার সংবাদ