-
- জাতীয়, টিকার
- নৌ দুর্ঘটনা ঘটেনি ৩ বছরে
- আপডেট : June, 7, 2018, 8:35 am
- 284 জন পড়েছেন
ঈদ ক’দিন পরেই। নৌ, সড়ক, রেল ও আকাশ পথে কোটি কোটি যাত্রী ঈদ উদযাপন করতে চলে যাবেন আপন ঠিকানায়। এসব ঘরমুখো মানুষের একটা বিরাট অংশ পাড়ি জমাবেন নৌপথে। কিন্তু এই নৌপথে যাত্রীরা এবার কতটা নিরাপদ? এ বিষয়ে আমার সংবাদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলছেন নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান। লিখেছেন জাকির হোসেন।
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ কতটা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে জানতে চাইলে নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নৌপথে নিরাপদ ভ্রমণের প্রশ্নে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়া যাবে না।
প্রতিটি ঘাটে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার লোকজন থাকবে নিরাপত্তার প্রশ্নে। অদক্ষ চালক দ্বারা লঞ্চ চালানো যাবে না। জাহাজ মালিকরা ঈদ উপলক্ষে কোনো ভাড়া বাড়াতে পারবেন না। অর্থাৎ বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত ভাড়া তাদের নিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া চলবে না। এছাড়া মাওয়া রুটে শিমুলিয়া, কাঠালবাড়ী এবং আরিচা রুটে দৌলদিয়া ফেরী ঘাটে ছোট ছোট লঞ্চ চলাচল করে। সেখানেও ধারন ক্ষমতায় চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্পিডবোটও রাতে চলাচল করতে পারবে না। আর যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ ঝড়-তুফানের দিনে লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে উঠবেন না। তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা শুধু ঈদ নয়, অনেক আগে থেকে নেয়া হয়েছে অর্থাৎ সব বিষয়ে কঠোর হওয়ার কারনে গত ৩ বছরে কোনো নৌ দুর্ঘটনা ঘটেনি।
আশা করছি সামনের দিনগুলোতেও কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না।ঈদের সময় ফিটনেস বিহীন জাহাজ চলাচলের একটা অভিযোগ সবসময়ই থাকে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪জন সার্ভেয়ার দিয়ে চলছে। এতগুলো জাহাজ দেখভাল করা মাত্র ৪জন সার্ভেয়ার দিয়ে সম্ভব নয়। এটা বাড়ানোর জন্য আমরা সরকারের অনুমোদন পেয়েছি। ২১ জন সার্ভেয়ার এবং ৬১ জন ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হবে। ফলে জনবলের আর অভাব হবে না। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ঘরে বসেই ফিটনেস সনদ দিয়ে দেয়। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে আর এ সমস্যা থাকবে না।
তবে এই নিয়োগের আগে চুক্তিভিত্তিক ৯জন সার্ভেয়ার নিয়োগ দেয়া হবে। আপাতত সমস্যার সমাধনের জন্য। নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে দুর্নীতি চরমে। দু’জন প্রকৌশলী দুর্নীতি করার সময় হাতনাতে ধরা পড়েছে। আসলে এখানকার অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, যেসব ঘটনা ঘটেছে তা শুধু নৌ পরিবহন অধিদপ্তর নয় আমার মন্ত্রণালয়ের জন্যও দুঃখজনক। তবে যার যার কর্মফল সে ভোগ করবে। মালিকরা জাহাজের ডিজাইনের (নকশা) বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেন না। প্রকৃতপক্ষে ডিজাইনের বিষয়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করার জন্য এই দুর্ভোগ। এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজনই যেন কাজটা না পায়। প্রত্যেকেই যেন কম-বেশি করে হলেও কাজ পায়। ইতিপূর্বে জাহাজ তৈরী করে তারপর অনুমোদন নেয়া হতো। এখন থেকে আগে নকশার অনুমোদন নিতে হবে।
আর এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে তারপর নকশার অনুমোদন দিতে হবে। এককভাবে কেউ এটা করতে পারবে না। এর ফলে আর দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। তিনি আরো বলেন, অনিয়মটা বন্ধ হয়নি। তবে মালিকদের অভিযোগ থাকলে বলুকÑআমরা ব্যবস্থা নেব। আজ পর্যন্ত কোনো মালিক এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। চলাচলের জন্য ৩৩টি লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ন। এ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যেগুলো চলাচলের অনুপযুক্ত তা আমরা চলতে দেব না। এ বিষয়ে ৩ বছরে আমরা কঠোর হয়েছি। তাই দুর্ঘটনা কমেছে।
এই বিভাগের আরও সংবাদ