আকাশবার্তা ডেস্ক :
বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রশ্ন তুলে আসার মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’র আলোচনা সভায় কঠোর আন্দোলনের এই হুঁশিয়ারি দেন মওদুদ। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা হাজী মো. মাসুক মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, উলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা এলাকায় যাব বলে পুলিশ তিন দিন আগে থেকে নেতাকর্মীদের ধরার জন্য রেইড দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু হয়তো আর দুই তিন মাস পর যখন যাব তখন এই পুলিশই আমি যেন ভালোভাবে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা করবে। এটা হবে, হতে বাধ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটা সময় আসবে যখন এই সরকার বুঝতে পারবে যে, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই, কোনো ভবিষ্যৎ নাই। স্পেসিফিকভাবে বলতে পারি না। তবে আর কিছু দিন অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরুন। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেয়া হবে, সেই কর্মসূচি কঠোর কর্মসূচি হবে। এটা কোনো নরম বা ভদ্রলোকের কর্মসূচি হবে না। কারণ আমরা জানি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার ও স্বৈরাচারী সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে উৎখাত করা যায় না। পৃথিবীর কোথাও সম্ভব হয়নি, আমাদের দেশেও সম্ভব না।’
‘১৯৬৯ সালের আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের আন্দোলন এগুলো সবই জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। সংবিধান মানুষের মঙ্গলের জন্য, সুতরাং সংবিধান কখনো বাধা হবে না। বর্তমান সরকার বলে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। মোটেও না, জনগণ যেভাবে চাইবে সেভাবেই নির্বাচন হবে,’ যোগ করেন মওদুদ।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হলমার্ক থেকে শুরু করে ব্যাংকগুলোতে লুট হয়েছে। এখন ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। আমরা দেখেছি, সরকারের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে হেল্প করা হচ্ছে। আজকে ব্যাংক খাত চরম সংকটে রয়েছে। অথচ ব্যাংকিং কমিশন গঠন করার ব্যাপারে বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই। জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। ব্যাংকের মালিককে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু রাখা হয়নি। এটা ধনীকে ধনী করা আর গরীবকে আরো গরীব করার বাজেট।’
বেগম খালেদা জিয়ার কারা ভোগ নিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, তার জামিন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। আমি কোনো দিন শুনিনি, জামিনের বিরুদ্ধে লিভ দেয়া হয়। আবার জামিন বিলম্বিত করার জন্য দেরি করে তারিখ দিচ্ছে।’
এ সময় সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যতই বিলম্ব করুন, জামিন হবে। এটা মানুষের মৌলিক অধিকার। যেদিন খালেদা জিয়া বের হবেন সেদিন কি হবে সেই ভয়ে ভীত সরকার। সরকার জানে খালেদা জিয়া বের হলে কী হবে। তিনি বের হলে আমরা আর ২০ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না। দেশের যতো গণতান্ত্রিক শক্তি আছে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’
নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে ভোট ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। টানা হরতাল-অবরোধ চালিয়ে গেলেও সফল হয়নি আন্দোলন। তারপরের বছর আবার সরকার পতনে টানা ৯০ দিন হরতাল-অবরোধ চালিয়েছিল বিএনপি। পরপর দুই বছর বিএনপির আন্দোলনে সরকারের পরতন না ঘটলেও নাশকতায় বহু মানুসের মৃত্যুর কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বিএনপি।