
প্রতিকী ছবি
আকাশবার্তা ডেস্ক :
কিশোর কিশোরী কর্তৃক সংঘটিত আইন ও সমাজ বিরোধী কার্যাবলিকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। সাধারণত ৭-১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীদের কিশোর অপরাধী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর দেশে দেশে একটি সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটি হলো কিশোর অপরাধ। কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চুরি, হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, পকেটমার, মাদকসেবন, ইভটিজিং, ইত্যাদিসহ এমন সব ভয়াবহ কাজ করছে, এমন সব অঘটন ঘটিয়ে চলছে এবং এমন সব লোমহর্ষক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছে। যা কি না অকল্পনীয়। বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানী, অপরাধবিজ্ঞানী, আইনবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীলসমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সভ্যতার এ চরম উৎকর্ষের যুগে আমাদের আগামী দিনের আশা ভরসার স্থল কিশোরসমাজের এ ব্যাপক বিপর্যয় সত্যিই বড় দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক। এ সর্বনাশা ছোবল থেকে আমাদের কিশোর-কিশোরীদেরকে রক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশে দিন দিন কিশোর অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোর অপরাধ বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। যেমন :
১. বাংলাদেশের ভৌগেলিক অবস্থান
২. শিশুদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক বিকাশ
৩. দারিদ্রতা
৪. পিতা-মাতার অসংগতিপূর্ণ আচরণ
৫. শিশুদের চিত্তবিনোদনের অভাব
৬. অনুকরণ ও মেলামেশার প্রভাব
৭. ধর্মীয় কু-সংস্কার

এ অপরাধ বন্ধ করতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেমন :
১. সুস্থ্য পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করে শিশু-কিশোরদের সুষ্ঠু ব্যক্তিত্ব বিকাশের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
২. শিশুরা যেহেতু অনুকরণ প্রিয়, তাই তারা যেন সৎ সঙ্গে মিশে এবং অসৎ সঙ্গ এড়িয়ে চলে সেদিকে নজর দিতে হবে।
৩. শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে।
৪. সুস্থ্য চিত্তবিনোদনের ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে শিশু কিশোরদের মানসিক গঠন সঠিকভাবে হয়।
৫. পঙ্গু ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য শিশুদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. ধর্মীয় জ্ঞান সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা দিতে হবে।
আসুন আমরা সবাই সচেতন হই, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ করি।