আকাশবার্তা ডেস্ক :
ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক তরুণীকে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণের চেষ্টার সময় চিৎকারে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেছে পথচারীরা। গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত যুবককে। ওই যুবকের নাম মাহামুদুল হক রনি।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিজি বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আটক রনিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া সঠিক তথ্যের জন্য ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে থানায় আনা হচ্ছে। ‘তরুণীদের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত রনিকে আটক ও তার প্রাইভেট কারটিও জব্দ করা হয়েছে।’
রনির কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ব্যাপারে ওসি জিজি বিশ্বাস জানান, রনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বাসা জিগাতলায়। সেখানে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক। তবে তিনি এই ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তরুণী জানিয়েছেন, ওই লোকটি তাকে জোর করে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এসেছিলেন। শনিবার দিবাগত রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, একটু গভীর রাতেই ঘটনাটি ঘটেছে। কারণ সে সময় আশপাশের ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ ছিল।
মেয়েটিকে উদ্ধারকর্তা তরুণদের একজন ভিডিও করে সেটি ফেসবুকে ছড়িয়েছেন। আর ঘটনার বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন।ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত রাফি আহমেদ তার ফেসবুক পেজে সেহরির সময় দুটি ভিডিও পোস্ট করেন। এরপরই সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
রাফি নামের ওই তরুণ জানান, মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগনালে ঠিক আমার সামনের প্রাইভেটকারটিতে কিছু একটা হচ্ছে বলে ধারণা করছিলেন তিনি। পরে লক্ষ্য করেন, গাড়ির পেছনের সিটে থাকা ছেলেটি একটি মেয়ের সাথে ধস্তাধস্তি করছে। বিষয়টি সন্দেহ হলে অনেকে এগিয়ে যায়। এসময় চালক দ্রুত গাড়িটি নিয়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাস্তায় যানজট থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি।
পরে গাড়িটি ধরে ফেলে স্থানীয়রা।এসময় তারা প্রাইভেটকারটির কাছে গিয়ে দরজা খুলতে বললে তারা গাড়ির দরজা খুলতে চায় না। পরে চাপের মুখে দরজা খোলা হয়।এসময় পেছনের সিটে থাকা ওই যুবক নগ্ন ছিলেন। পরে প্যান্ট পরিয়ে তাকে বাইরে বের করে আনা হয় এবং ওই তরুণীকে অন্য নারী বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেন।
রাফি লিখেন, ওই যুবক নেশাগ্রস্ত ছিলেন। পরে জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে নগ্ন করে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় গাড়ির চালক ও তিনি সে অবস্থতেই পালিয়ে যান। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৫৪১৪। কারটির মালিকের নাম মো. বাহাউদ্দিন বাহার। গাড়িটির চেসিস নম্বর ০০৯২২৪৯ এবং ইঞ্জিন নম্বর ৩২৯৪৫৯০।
তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘আমি ঘটনার ভিডিওটি দেখেছি। মাঠে নেমেছে পুলিশ। আশা করি ঘটনার বিস্তারিত দ্রুত বের করতে পারব।’
ভিডিও দেখুন :-