আকাশবার্তা ডেস্ক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঈদের পরই পেশীশক্তির প্রদর্শন শুরুর আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। আর এই শক্তি পরীক্ষার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ক্ষুদ্রাস্ত্র। নির্বাচনের আগ-মুহূর্ত থেকে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছোট-বড় পেশাদার অপরাধীদের হাতে দেওয়া হয় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। তাদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রকাশ্যে চালানো হয় এই ক্ষুদ্রাস্ত্রের মহড়া।
আবার প্রভাবশালীরা তাদের অনুগতদের কারাগার থেকে জামিনে বের করে হাতে তুলে দেন অবৈধ এই ক্ষুদ্রাস্ত্র। ক্ষমতার শুরু থেকেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের খেলা চালাতে হয়। সেই খেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বাইরে থেকে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্রাস্ত্রের চালান আনতে শুরু করে। এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীরা নিত্য-নতুন পদ্ধতি ও সুপরিচিতির আড়ালে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, তাদের সহধর্মীদেরও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায় নিয়োজিত করছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহের ডা. জাহিদুল আলম কাদির ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের একটি টিম গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ডা. দম্পতির কাছ থেকে ১৫টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৬২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেল ৩টি, পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল-১টি, পয়েন্ট ৩২ বোর রিভলবার ৪টি, পয়েন্ট ২২ রিভলবার ১টি, ৭.৬৫ পিস্তল ৫টি ও পয়েন্ট ২৫ পিস্তল ১টি। আর উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেলের ১১০ রাউন্ড, পয়েন্ট ২২ রাইফেলের ১১০০ রাউন্ড, পয়েন্ট ৩২ রিভলবার ৩৫৮ রাউন্ড ও পয়েন্ট ২৫ পিস্তলের গুলি রয়েছে ৫৪ রাউন্ড। গ্রেপ্তারকৃত ডা. জাহিদুল আলম ওরফে কাদির পেশায় একজন ডাক্তার হলেও বুঝার কোনো উপায় নেই যে তিনি অস্ত্র ব্যবসায়ী।
এই পেশার আড়ালে তিনি শুধু অস্ত্র ব্যবসায়ীই নয় একজন পেশাদার কিলারও বটে। বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও মেরামতে বিশেষ পারদর্শী। তাদের হেফাজত থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৬২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ১৫ মে ডা. জাহিদুল আলমকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি বিদেশি পিস্তল এবং ৮ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ জুন গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মাসুমার তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন যে, ডা. জাহিদুল আলম কাদিরের কাছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তার কাছে আরও বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।
এরপর ময়মনসিংহের বাঘমারা এলাকায় তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি তার নিজ বাসায় বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি স্টিল কেবিনেটের পিছনে রাখা হয়েছিল। এছাড়া, গত মে মাসের প্রথমদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ মে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় পেকুয়া-বাঁশখালী সীমান্ত এলাকায় ফুটখালী ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে চেকপোস্ট বসিয়ে ৫টি অস্ত্রসহ ২ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া এদিন রামদাশ হাটের পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ রাউন্ড কার্তুজ ও ১টি দেশীয় (বন্দুক) এলজিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া রাজধানীর ডেমরা থানা পুলিশ গত ৭ জুন ভোর রাতে ডেমরা বাজারের নামাপাড়া এলাকা থেকে মো. রাজিব থানদার (২৫) নামের এক যুবককে একটি রিভলবারসহ গ্রেপ্তার করে। রাজিব গোপালগঞ্জ সদর থানার নিজড়া গ্রামের সাইফুল থানদারের ছেলে বলে জানা গেছে। এদিকে গত রোববার ভোরে রাজধানীর ভাটারার মাদানী এ্যাভিনিউ খ্রিস্টান প্রজেক্ট এলাকায় ডিবির সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় শরীফ উদ্দিন ওরফে বুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র : এএইচ/আমার সংবাদ